সেন্টমার্টিন রুটে নতুনভাবে যাত্রা ৮ ডিসেম্বর থেকে

9

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটের বিলাসবহুল জাহাজ ‘এমভি বে ওয়ান’ এর চলাচল। কর্ণফুলী ক্রুজ লাইনের পাঁচতারকা মানের ৭ তলা বিশিষ্ট এই প্রমোদতরীটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃস্পতিবার রাত ১০টায় ছেড়ে শুক্রবার ভোরে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে এবং ১ দিন ১ রাত ওখানে অবস্থান করে শনিবার সকাল ১০টায় সেন্টমার্টিন থেকে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ফিরবে। চট্টগ্রাম না ফিরে যারা কক্সবাজার যাবেন তারা যেকোনো দিন এই কোম্পানির ‘এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও নতুন ‘এমভি বার আওলিয়ায় করে যেতে পারবেন সেখানে। ‘সেন্টমার্টিন ক্রুজে চেপে সাগরবক্ষ থেকে গোটা প্রবালদ্বীপ, ছেড়াদ্বীপ ও নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনালে অবস্থাহনরত ‘এমভি বে ওয়ানে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্ণফুলী ক্রুজলাইন কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানান।
৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ৭ তলা বিলাসবহুল এই প্রমোদতরীটি সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশন সুবিধা সম্বলিত। ১৮০০ আসনের জাহাজটিতে সাধারণ চেয়ার থেকে বিলাসবহুল কেবিন, সিভিউ ও রুফটপ বাফেট রেস্তোঁরাসহ একাধিক ট্রেডিশনাল রেস্তোঁরা, আইসক্রিম ও কফিবার, ব্রান্ড শপ সবই আছে। জাহাজ পরিচালনা ও পর্যটকদের সেবা দেয়ার জন্য এতে ১০০ এর বেশি নাবিক রয়েছেন।
বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে হয় বলে আন্তর্জাতিক মানের নৌ-নিরাপত্তা সম্বলিত এই জাহাজে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য রয়েছে লাইফ জ্যাকেট ও জীবনতরীসহ যাবতীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি। বিশেষ করে সাগরে ঢেউ হলে জাহাজের তলদেশে থাকা দুইপাশে দুটি পাখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে ঢেউয়ের মুখেও জাহাজ দুলতে থাকে না।
যাত্রীসেবার বিবেচনায় জাহাজটিকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোসহ যাতায়াত ভাড়াও বিগত মৌসুমগুলোর তুলনায় কিছুটা কমানো হয়েছে। জাহাজটির ইকোনোমি ক্লাস চেয়ারের ভাড়া রাউন্ড ট্রিপ ৫০০০ এর স্থলে ৪৫০০ এবং ওয়ানওয়ে ২৮০০ এর স্থলে ২৫০০ টাকা। বিজনেস ক্লাস চেয়ার রাউন্ড ট্রিপ ৭০০০ এর স্থলে ৬০০০ এবং ওয়ানওয়ে ৩৭০০ এর স্থলে ৩৩০০ টাকা। ওপেন ডেক রাউন্ড ট্রিপ ৭৫০০ এর স্থলে ৬৩০০ টাকা এবং ওয়ানওয়ে ৪৫০০ এর স্থলে ৩৫০০ টাকা। বাংকার বেড রাউন্ড ট্রিপ ৮০০০ এর স্থলে ৬৫০০ এবং ওয়ানওয়ে ৫০০০ এর স্থলে ৩৭০০ টাকা। ফ্যামিলি বাংকার বেড রাউন্ডট্রিপ ৩৫,০০০ এর স্থলে ৩০,০০০ এবং ওয়ানওয়ে ১৯০০০ এর স্থলে ১৬,০০০ টাকা। ভিভিআইপি প্রেসিডেনসিয়াল কেবিন রাউন্ডট্রিপ ৩৮,০০০ এর স্থলে ৩২,০০০ এবং ওয়ানওয়ে ২০,০০০ এর স্থলে ১৭,৫০০ টাকা। রয়েল কেবিন ৪০,০০০ এর স্থলে ৩৪,০০০ এবং ওয়ানওয়ে ২৩,০০০ এর স্থলে ১৯,০০০ টাকা। ভিভিআইপি প্রেসিডেন্সিয়াল প্ল্যাস কেবিন রাউন্ডট্রিপ ৪৫,০০০ এর স্থলে ৪০,০০০ এবং ওয়ানওয়ে ২৫,০০০ এর স্থলে ২২,০০০ টাকা। ভিভিআইপি কেবিন রাউন্ড ট্রিপ ৪৫০০০, এর স্থলে ৪০,০০০ এবং ওয়ানওয়ে ২৫০০০ এর স্থলে ২২,০০০ টাকা। বেলকুনিসহ অ্যাটাস্ট বাথ সুবিধা সম্বলিত দ্যা এমপেররস্ কেবিন রাউন্ডট্রিপ ৫০,০০০ এর স্থলে ৪৫,০০০ টাকা এবং ওয়ানওয়ে ২৮,০০০ এর স্থলে ২৫,০০০ টাকা।
উল্লেখ্য, সড়ক পথে চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ, সেখান থেকে নৌপথে সেন্টমার্টিন যেতে হত। সব মিলিয়ে ২৮২ কিলোমিটারের যাত্রাপথে ছিল নানা ঝক্কি। সাগর পথে ২৩৬ কিলোমিটার দূরে সেন্টমার্টিন যেতে সেই ঝক্কি এখন আর নেই। বরং বাড়তি পাওনা নদী-সাগরের বিচিত্র রূপ আর মুগ্ধতা। নদীর নাব্যতাসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবেলা করে দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি. ২০২০ সালে ‘কর্ণফুলী ক্রুজলাইনের অধীনে শুরু করে অতি কাক্সিক্ষত ও স্বপ্নের এসব নৌরুট তথা জাহাজ চলাচল। যা ছিল পর্যটক ও দ্বীপবাসীদেরও দীর্ঘদিনের দাবি।