সেই রক্তাক্ত ২১ আগস্ট

37

 

১৭ টা বছর জাতির ইতিহাস এক ভয়াবহ কলঙ্কের ভার বহন করে চলেছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বুকে যা ঘটেছিল, তা মনে করলেও শরীর শিউরে ওঠে, বিবেক হয়ে পড়ে যন্ত্রণাদগ্ধ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং সে সময়ের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে জনসভায়। শেখ হাসিনাসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবর্গকে একসঙ্গে খতম করে আওয়ামী লীগ তথা তৎকালীন বিরোধী দল তথা জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার কী ভয়াবহ উদ্যোগ: নীলনকশা, ষড়যন্ত্র, গ্রেনেড জোগাড়, হামলা, অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করা এবং অবশেষে ঘটনার দায় খোদ আওয়ামী লীগ আর ভারতের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা। রক্তের ¯্রােত বয়ে গেল আরেক আগস্টে, এই বাংলায়। গ্রেনেড, বিস্ফোরণ, ধোঁয়া, স্পিøন্টার, আর্তনাদ! নেতা-নেত্রীরা ঘিরে ধরলেন সভানেত্রীকে, রচনা করলেন মানববর্ম।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সেই বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ওই গ্রেনেড হামলায় ঢলে পড়লেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান। মৃত্যুর আগে উড়ে গেছে তাঁর শরীর নিচের দিক; তিনি শূন্য চোখে এই পৃথিবীর দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন, এই ফটো যতবার দেখি, ততবার মনে হয়, এ কি কোনো মানুষের কাজ! রাজনীতি এত নিষ্ঠুর, মানুষ এত নৃশংস হতে পারে! ওই হামলায় ২৪ জন নিহত হন। আহত হন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্পিøন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। শরীরে স্পিøন্টার নিয়ে আহত ব্যক্তিরা তাকিয়ে ছিলেন বিচারের দিকে। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন, ১৪টা বছর। কিন্তু শুধু কি তারাই? জাতির বিবেকেই যেন স্পিলন্টারবিদ্ধ হয়ে ছিল। পুরা জাতিই চেয়েছে এই কলঙ্কের দায় থেকে মুক্তি। তাই অচিরেই এই অশুভ শক্তির মূল উৎপীড়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক