সুস্বাস্থ্য ও মেধাবিকাশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ জরুরি

6

সুস্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। মানব স্বাস্থ্যকে অবলম্বন করে মানুষের মেধার বিকাশ ঘটে। মেধাবী জাতি গঠনে সুস্বাস্থ্যের বিকল্প নেই। অসুস্থ মানুষ পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের জন্য বোঝা। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং মেধাবী নাগরিক দেশের উন্নতি অগ্রগতির পূর্বশর্ত। মানবের মেধা এবং শ্রমের উপর নির্ভর করে যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি নির্ভরশীল। দেশের খাদ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি কর্তৃপক্ষ থাকলেও যার কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ে না। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল, উৎপাদনে নানা কৃত্রিম পন্থা অবলম্বন, খাদ্যের গুণাগুণ বিষয়ে সাধারণ জনগণের অজ্ঞতা, সুস্বাস্থ্য গঠনে খাবার গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি সুখাদ্য বিষয়ক কার্যক্রম। বিষয়টি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কর্তৃপক্ষের কাজ বলে আমরা মনে করি। যদি উক্ত কর্তৃপক্ষ দেশের খাদ্য উৎপাদনকারী শ্রমিক-কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যের উপকারিতা, গুণাগুণ এবং কোন কোন খাদ্য মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম দেশে নেই বললেই চলে। স্থানীয় সরকারের সেক্টরসমূহ, জনপ্রশাসন এবং সরকারি প্রচার মাধ্যমের সুস্বাস্থ্য গঠন এবং মেধা বিকাশের উদ্দেশ্যে বিচিত্র কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের সুখাদ্য তথা সুষম খাদ্য সেবনের পরিবেশ তৈরি করা যায়। কিন্তু আমরা দেখতে পাই এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত দায়িত্বশীলতার পরিচায় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কলকারখানায় যারা খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত তাদের মধ্যে খাদ্যের গুণাগুণ বিষয়ে ধারণা থাকা যেমন জরুরি, তেমনি যারা খাদ্য সেবন করে তাদেরও সেব্য খাদ্য বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। সুষম খাদ্য সেবন ছাড়া জাতির স্বাস্থ্য এবং মেধা কোনটাই নিশ্চিত হতে পারে না। তাই জাতির জন্য শরীরের উপযোগী এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য সেবনের নিশ্চয়তা বিধান বর্তমান সময়ে খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে গণস্বাস্থ্য ধ্বংসের জঘন্য কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। শাক-সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ইত্যাদি খাবারে বর্তমানে ভেজাল মেশানো হচ্ছে। সাধারণ জনগণ কোন প্রকারে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য খাচ্ছে মাত্র। খাদ্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক থাকছে কি না এ বিষয়ে দরিদ্র সাধারণ মানুষের ভাববার অবকাশও দেখি না।
এমতাবস্থায় জাতির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যের উপযোগী খাদ্য বাজারজাতকরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। আমরা যতদিন খাদ্য ও ওষুধকে ভেজালমুক্ত করতে সক্ষম হবো না, ততদিন দেশ সত্যিকার অর্থে প্রগতির পথে হাঁটতে সক্ষম হবে না। দেশের নিরাপদ খাদ্য ও ভেজালমুক্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের জনশক্তি তাদের সঠিক মেধার বিকাশ ঘটিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এর জন্য নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার কোন বিকল্প নেই।