‘সুষম সমাজ বিনির্মাণ’ এর শিক্ষক

11

“সুষম সমাজ বিনির্মাণ” গ্রন্থটির লেখক অধ্যাপক আহসানুল আলম পারভেজ। বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক। ধনী পরিবারের সন্তান। কিন্তু ভাবেন গরিব মানুষ নিয়ে। তাদের জন্য করেন অনেক যা এই আলোচনায় আনতে চাইনা। প্রাসঙ্গিকভাবেই উল্লেখ করতে চাই আলোচ্য গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর জন্মদাত্রী মা,পরিবার ও সুবিধা বঞ্চিত প্রজন্মকে। এই সুবিধা বঞ্চিত প্রজন্মকে নিয়েই যত প্রস্তাব যত কথা এই বইয়ে। “দেশের মানুষের বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু’ র কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্নের সমাজ গড়বে” গ্রন্থটির প্রচ্ছদে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
অধ্যাপক পারভেজ এই বইতে লিখেছেন” সুষম সমাজ এমন একটি সমাজ যেখানে থাকবেনা হানাহানি, গুম, খুন, ধর্ষণ, রক্তের হোলিখেলা, যেথায় নতুন প্রজন্ম আদরে বড় হবে, বৃদ্ধরা সমাদরে, যুবক যুবতীরা শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্ম জীবনে প্রবেশ করবে ক্লেশহীনভাবে, গ্রহণযোগ্য জীবনযাত্রার মানের নিশ্চয়তা থাকবে সবার জন্য। বইটি আসলে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সুন্দর এবং বাস্তবধর্মী প্রস্তাবনা।এতে আছে বেকারত্ব দূরীকরণে প্রত্যক্ষ বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রান্তিক মানুষ এর মাথাপিছু গড় আয় ১৯০৯ ডলার তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া, মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে পৃথক দপ্তর, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নার্স তৈরির জন্য প্রত্যেক বৃহৎ মেডিকেল কলেজে নার্সিং বিভাগ বা ইন্সটিটিউট খোলা,খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন ও মোবাইল কোর্ট এর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানো,বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রতিটি স্তরে আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, প্রকাশ্যে খুনে হাতে নাতে ধৃতদের মোবাইল কোর্ট কর্তৃক তাৎক্ষণিক ডিটেনশন, সুষম বাজেট ভাবনা, বাজেট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গরিববান্ধব করা, ব্যংকিং খাতকে ঢেলে সাজানো, ব্যাংক আমানতের ৩০ ভাগ বৃহৎ ঋণ,২৫ ভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণএবং ১০ ভাগ নারী, ২০ ভাগ নতুন উদ্যোক্তা ও ৫ ভাগ প্রতিবন্ধিদের জন্য রাখা,কৃষি ভিত্তিক শিল্প তৈরির জন্য সব ব্যাংকের মোট ঋণের ১০% ঋণ এর ব্যবস্থা করা,নারীদের ঋণ পাওয়ার সমান সুযোগ সৃষ্টি, নতুন উদ্যেক্তাদের ঋণ পাওয়ার বিষয় সহজীকরণ, মাদকবিরোধী কৌশল পত্র প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,সরকারি বেসরকারি সকল নিয়োগে ডোপ টেস্ট চালু,স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা,নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে দেশের সকল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ড্রাইভিং বিভাগ খোলা, ভোকেশনাল শিক্ষার জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা, প্রত্যেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান অনুযায়ী ইউ জিসি কতৃক সেমিস্টার ফি নির্ধারণ, স্পনসর গ্যারান্টির ভিত্তিতে শিক্ষা ঋণ চালু, ওয়েজ আর্নার আই ডি কার্ড প্রদান সহ বিশদ লেখা সহ প্রস্তাবনা যা সবই সাধারণ মানুষের জন্য।
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ দগদগে ঘা। এই গ্রন্থে সেই বিষয়গুলোই তুলে এনে প্রতিকারের কথা বলেছেন অধ্যাপক পারভেজ। বইটির প্রকাশক তাঁরই প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র ও ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকনমিক রিসার্চ বাংলাদেশ। মূল্য: ৪০০/ টাকা। বইটি জ্ঞানী ও সমাজসংস্কারক পাঠকের জন্য অবশ্য পাঠ্য।