সুমিতার স্বামীই আসামি

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুরে নিজ ঘর থেকে মা ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে মারা যাওয়া সুমিতা বেগমের ফুফা মো. শামসুল ইসলাম (৬২) বাদী হয়ে গতকাল শনিবার মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সুমিতা বেগমের স্বামী সোহেল রানাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে অশান্তি চলছিল। যতটুকু জানতে পেরেছি, তারা পরিবারের মত না নিয়ে বিয়ে করেছিল। যার কারণে পরিবারের সাথে কিছুটা দুরত্ব রয়েছে। সুমিতার ক্ষোভগুলো ছিল দীর্ঘদিনের, তাই এর বহিঃপ্রকাশ এভাবে করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান বলেছিলেন, দরজা জানালা সব কিছুই ঠিকঠাক আছে। বাইরে থেকে কেউ আসারও কোনো সুযোগ নেই। আমরা সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। বাকিটা তদন্তের পর জানা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কন্যা সন্তানের হাতের রগ কেটে হত্যার পর অন্য শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে নিজেই আত্মহত্যা করেছে সুমিতা বেগম। কিন্তু একজন মা, কতটুকু অসহায় হলে এমন কাজটি করতে পারে। তবুও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাত তলা ভবনের ৪র্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী সুমিতা ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন ব্যবসায়ী সোহেল রানা। সোহেল রানা বাসার পাশে একটি ইউনানি ওষুধের দোকান করেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে তিনি বাসায় এসে অনেক ডাকাডাকি করার পরও দরজা খুলেননি স্ত্রী। এসময় সুমিতা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। দারোয়ানের কাছে বাসার অতিরিক্ত চাবি চাইলে কিছুক্ষণ পর দারোয়ান চাবি নিয়ে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। ভেতর থেকে হুক দেওয়ায় এতে কোনো কাজ হয়নি। এসময় বাসার জমিদার থানা পুলিশকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে পাঁচলাইশ থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে অনেক্ষণ দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৬ টায় পুলিশ দরজা ভেঙে মা ও দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করে। এর মধ্যে মা সুমিতা বেগম ও ছেলে শিশু শানের লাশ ঝুলানো অবস্থায় এবং বড় মেয়ে জান্নাত মুনের লাশ খাটে পড়ে ছিলো।