সীমান্তে ৫ ঘণ্টাব্যাপী মর্টার শেল ও গুলির শব্দ

8

পূর্বদেশ ডেস্ক

টেকনাফ উপজেলা সীমান্ত থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরের গোলাগুলির প্রচন্ড শব্দ থেমে থেমে শোনা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, বুধবার ভোর ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে মর্টার শেল ও গুলির বিকট শব্দ পাওয়া যায়। অবশ্য গত মঙ্গলবার কোন ধরনের শব্দ শোনা যায়নি।
এদিকে মিয়ানমারে সেনা-বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে ৩টি মর্টার শেল এসে পড়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে প্রচন্ড গোলাগুলির মধ্যে এ তিনটি মর্টার শেল পড়ে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান।
জানা গেছে, রাখাইনে সেনা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে সীমান্তের এপারের জনগোষ্ঠীর মধ্যেও। গত শনিবার সংঘর্ষের খবরের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উলুবনিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে একটি গুলি এসে পড়লে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর বিডিনিউজ’র
হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছেন বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে মর্টার শেল নিক্ষেপ হলে সীমান্তের এপারের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। মর্টার শেল, গুলি এদিকে এসে পড়ে কি-না স্থানীয়রা সবসময় সেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। সীমান্তে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আবারও মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তে দিয়ে মর্টার শেল ও গুলির শব্দ ভেসে আসছে। যদিও এটি তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তবে এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে যেন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেজন্য সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
এদিকে গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের বাসিন্দারাও। মিয়ানমার অংশে গত মঙ্গলবার রাতের বেলায়ও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত সোমবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ছুটি’ দিয়ে দেওয়া হলেও তবে মঙ্গলবার ফের খুলেছে।
ওপারে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এসে পড়ল ৩ মর্টার শেল : মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মর্টার শেল এসে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার রাতে প্রচন্ড গোলাগুলির মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতইয়ারছড়ায় এসে তিনটি মর্টার শেল পড়ে বলে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাকারিয়া আজিজ জানান। এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও পুলিশ ও বিজিবির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম ছবি দেখে বলেছেন, অস্ত্রের যেসব অংশ দেখা যাচ্ছে এগুলো মর্টার শেলেরই ভাঙা অংশ। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের অবস্থান উঁচু-নিচু এলাকায় হলে প্রতিপক্ষ এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে। মূলত শত্রুপক্ষের দূরবর্তী সঠিক নিশানায় আঘাত হানতে যুদ্ধক্ষেত্রে মর্টার শেল ব্যবহার করা হয়।
ঘুমধুম ইউনিয়নের তেঁতইয়ারছয়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল আলম বলেন, কয়েকদিন ধরে সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দিনেরাতে থেমে থেমে বিকট শব্দে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ চৌধুরী বলেন, রাতে তিনটি মর্টার শেল এসে পড়েছিল। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা বিজিবিকে জানায়। সকালে সেগুলো বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।