সীমান্তে আবারও গোলা নিক্ষেপ মিয়ানমারের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেয়া যায় না

11

বান্দরবান সীমান্ত এলাকা নাইক্ষ্যংছড়িতে আবারও মিয়ানমারের ওপার সীমান্ত থেকে ২টি গোলা এসে পড়েছে। খালি জায়গায় এ গোলা এসে পড়ায় কেউ হতাহত হয়নি, তবে আশেপাশের রাবার বাগানের কর্মচারিদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর আগে গত সপ্তাহের শুরুতে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের তু¤্ররু বাজার এলাকায় মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেল এসে পড়েছিল। ভাগ্যক্রমে এ মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়নি। ওই সময় বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আবারও মিয়ানমার সীমান্তে গোলা ছোড়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে মিয়ানমারকে সতর্ক করবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি ইতোমধ্যে মিয়ানমারের এ জাতীয় সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়িতে বিরক্ত প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এসময় তিনি গণমাধ্যমকে জানান কোন অবস্থাতেই মিয়ানমারের আর কোন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সূত্র জানায়, মাসাধিককাল ধরে একাধিকবার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়। প্রথমদিকে এ ঘটনা অন্চ্ছিাকৃত ও ভুলবশত মনে করা হলেও বাস্তবে শনিবারের গোলা নিক্ষেপে মনে করা যেতে পারে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিশ্ববাসীর মনোযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহ করতে এ জাতীয় ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের প্রতিবাদ আরো তীব্র করার পাশাপাশি মিয়ানমারের আগ্রাসী মনোভাবের কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত থাকাও জরুরি। রবিবার দৈনিক পূর্বদেশে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদে স্থানীয় প্রশাসন ও ঘুমধুম এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রতিবেদকের যে কথা হয়েছে তা উল্লেখ করে বলা হয়, প্রায় তিন সপ্তাহজুড়ে সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির লড়াই চলছে। শনিবার সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। দুপুরে সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর বিকেলে বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যে গোলা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
ঘুমধুম এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায়, যেখানে গোলা নিক্ষেপ করেছে, সেখানে জনবসতি নেই, তবে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাবার বাগান রয়েছে। রাবার বাগানে কর্মচারিরা সার্বক্ষণিক থাকেন। গত সপÍাহে মর্টাার শেল এ সপ্তাহে গোলা এসে পড়ায় বাগানের কর্মচারি ও এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বান্দরবান ও কক্সবাজার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের এ ভূমিকা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। শূন্যরেখার দিকে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের ৬২১টি পরিবারের ৪ হাজার ২০০ জন সদস্য রয়েছেন। গোলাগুলির শব্দে তারা বেশি আতঙ্কে রয়েছে। আমরা মনে করি, মিয়ানমার সরকার যদি কোন গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী নাম দিয়ে দমন করতে চায়, তা তাদের আভ্যন্তরীন বিষয়। কিন্তু কথিত বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ইত্যাদি ঘুরোঘুরি করা এবং সীমান্ত অতিক্রম করে মর্টার শেল ও গোলা নিক্ষেপ করা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এটি সুস্পষ্ট কূটনেতিক সীমা লঙ্ঘন, একটি দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানার শামিল। আমরা মনে করি, মিয়ানমার কয়েকবছর ধরে তাদের বড় একটি জনগোষ্ঠীকে নিপীড়ন চালিয়ে বাংলাদেশে টেলে দিয়েছে; মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও মিয়ানমার চুক্তি করার পরও নানা টালবাহানায় তাদের ফেরৎ নিচ্ছে না। এরপর সীমান্তে অশান্তি বিরাজের অপতৎপরতা মেনে নেয়ার কোন সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটেবিলে এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের নির্বিচার হত্যাকাÐ, অগ্নিসংযোগের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখনো নিজ দেশের জনগণের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত। তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন তিনি।