সীতাকুন্ডে গৃহবধূ ও হাটহাজারীতে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

16

সীতাকুন্ড ও হাটহাজারী প্রতিনিধি

বিয়ের সাত মাসের মাথায় সীতাকুন্ডে গলায় ফাঁস দিয়ে ফাতেমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের পশ্চিম মান্দারীটোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ একই এলাকার রবিউলের স্ত্রী। এদিকে মায়ের সাথে অভিমান করে সিলিং ফ্যানে ওড়না পিছিয়ে আত্মহত্যা করেছে আইরিন আক্তার শিমু (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রী। গত রবিবার (১২ নভেম্বর) রাতে হাটহাজারী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড ফটিকা গ্রামের জমিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি জানায়, বিয়ের সাত মাসের মাথায় সীতাকুন্ডে গলায় ফাঁস দিয়ে ফাতেমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। জানা যায়, গত সাত মাস আগে একই ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে বিয়ে করেন মান্দারীটোলা গ্রামের রবিউল। বিয়ের পর কৃষক স্বামী-স্ত্রী সংসার জীবন সুন্দর চলছিল। এরই মধ্যে সংসারে অভাব অনটন নিয়ে টুকিটাকি ঝগড়া বিবাধ শুরু হয়। গত রবিবার রাতে স্বামী রবিউল ও ফাতেমা এক সাথে এক আত্মীয়ের পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান। গতকাল সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বামী-স্ত্রী একসাথে নাস্তাও করেন। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে নিহত ফাতেমা ঘরের দরজার বন্ধ করে দীর্ঘ সময় ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিষয়টি বাড়ির অন্যদের চোখে পড়লে ঘরের দরজায় গিয়ে দরজা ধাক্কা দিলেও না খোলায় সন্দেহ বাড়ে। পরে ঘরের দরজা খুলে দেখতে পায় সেই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছে। পরে স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলে, পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
সীতাকুন্ড মডেল থানার এস.আই মো খুরশীদ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাড়বকুন্ড থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের তথ্যমতে, পারিবারিক ঝগড়ার কারণে আত্মহত্যা করতে পারে। তারপর আমরা লাশটি মর্গে প্রেরণ করেছি সুরতহাল রিপোর্ট হাতে আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
এদিকে হাটহাজারী প্রতিনিধি জানায়, মায়ের সাথে অভিমান করে সিলিং ফ্যানে ওড়না পিছিয়ে আত্মহত্যা করেছে আইরিন আক্তার শিমু (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রী । থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ বেলাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে ওই কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শিমু ওই গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মো. জহির উদ্দিনের কনিষ্ঠ মেয়ে। ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট মহিলা ডিগ্রি কলেজ একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে শিমুর বাসায় মেহমান থাকায় সে এবং তার পিতা জহির উদ্দিন রাত ১১টার দিকে তার ছোট চাচা প্রবাসী নুর উদ্দিনের বাসায় ঘুমাতে যায়। এরমধ্যে রাত তিনটার দিকে শিমুর বাবা তার মেয়ের কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পায়। কৌতূহল বসত দরজা ভেঙ্গে মেয়ের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দেখে তার মেয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পিছিনো অবস্থায় ঝুলে আছে।
শিমুর পিতা জহির উদ্দিন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তার কন্যা শিমু ঘুম হচ্ছে না বলে সে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আসছিল। বিষয়টি তারা জানতে পেরে তাকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। চিকিৎসক শিমুকে ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। গতকাল সোমবার আবারও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি মায়ের সঙ্গে অভিমান করেই শিমু আত্মহত্যা করেছে। বিনা ময়না তদন্তে মেয়ের মরদেহ দাফনের জন্য থানায় তার (শিমু) পিতামাতা আবেদন করেছে । সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ ছাত্রী শিমুর মরদেহটি দাফনের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।