সীতাকুন্ডের গুলিয়াখালী সৈকত নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা

18

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে নন্দিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত কক্সবাজার। বিশ্বের অনেক দেশের পর্যটক প্রিয়রা বঙ্গোপসাগরের মোহনায় সাগরের উত্তাল ঢেউ দেখতে ছুটে আসেন এই সমুদ্র সৈকতে। সৈকতকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা শহরে গঠে উঠেছে হোটেল-মোটেল জোন। এই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণপিঁপাসু পর্যটকদের চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার ইতোমধ্যে সীতাকুন্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে সরকারিভাবে উন্নত করে তা পর্যটনপ্রিয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভার্চুয়াল মাধ্যম জুম মিটিংয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে যুক্ত ছিলেন বিমান ও পর্যটন, বন ও পরিবেশ, ভূমি, আইন মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সর্ব সম্পত্তিক্রমে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং পরবর্তীতে এসব বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সীতাকুন্ডে উপজেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করেছে। হোটেল, মোটেল জোন করতে জায়গা অধিগ্রহণ ও খাস জায়গা শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। পর্যটন কর্পোরেশনকে সমুদ্রতীরবর্তী স্থানকে পর্যটন এলাকা হিসেবে স্বীকৃতিদানের আবেদন মঞ্জুরের পথে।
সরেজমিনে ও পর্যটকদের কাছ থেকে জানা যায়, অপরূপ গুলিয়াখালী সৈকতের সোনালি গোধূলি, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর সীতাকুন্ড উপজেলাধীন মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। বাহারী রঙের বৃক্ষ আর সবুজের সমারোহ পরিবেশকে আরো সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে। বিশাল আয়তনের এই পর্যটন স্থান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অধীর আগ্রহে পর্যটকরা ঘুরতে যান সেখানে। একদিকে দিগন্ত জোড়া জলরাশি আর অন্যদিকে কেওড়া বন। আছে সবুজ গালিচার বিস্তৃত ঘাস। তার মাঝে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা নালা। জোয়ারের পানিতে সবুজ ঘাসের ফাঁকে নালাগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে। এরই মাঝে রয়েছে ছোট ছোট লাল আকৃতির কাঁকড়া। জোয়ার চলে গেলে ফিরে যায় আগের অবস্থায়। মৃদু বাতাস আর গাছের পাতার ফিসফিসানিতে তৃপ্ত দুপুর, স্নিগ্ধ বিকেল কিংবা বিষন্ন সন্ধ্যাটি যে কাউকে রাঙিয়ে তুলবে বর্ণিল আলোকছটায়। খাল ধরে এগিয়ে গেলে মিলবে সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগের এক অভাবনীয় মুহূর্ত।
চোখের সামনে অনন্য সুন্দরের এক সৈকত। গুলিয়াখালী সমুদ্রতীরকে সাজাতে কোনো কার্পণ্য করেনি প্রকৃতি। সবকিছু মিলে এ যেন প্রকৃতির অন্যরকম ‘আশীর্বাদ’। এই সৈকতের একপাশে রয়েছে সাগরের জলরাশি, অন্যপাশে কেওড়া বন। দেখা মিলবে সোয়াম্প ফরেস্ট আর ম্যানগ্রোভ বনের অন্য রকম মিলিত রূপ। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনের আওতায় আনতে নেয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। রাস্তার প্রশস্তকরণ,সংস্কার উন্নয়ন, হোটেল-মোটেল, রির্সোট গড়ে তুলতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে প্রস্তাবনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে সরকারি স্বীকৃতিস্বরুপ পর্যটন কর্পোরেশনের প্রস্তাব হাতে পেলে উপজেলা প্রশাসন খুব দ্রুত পর্যটনদের আকৃষ্ট করতে হোটেল, মোটেলের কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের কাছে সৈকতটি মুরাদপুর সি-বিচ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড বাজার থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না লাগলেও এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলবেঁধে অনেক দর্শণার্থী ছুটে আসছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই সৈকতে। সংশ্নিষ্টদের মতে, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত হতে পারে দেশের পর্যটনের অন্যতম একটি স্থান। আর তা সম্ভব হলে দেশের পর্যটন খাতে অনেক বড় অবদান রাখা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন,‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে আমরা গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের জন্য রাস্তা প্রশস্তকরণ, হোটেল, মোটেল,জোনের জন্য ঘাস জায়গা অধিগ্রহরে কাজ শুরু করেছি। আজও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব স্যারের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। যতটুকু দেখেছি পর্যটনের অপার সম্ভাবনা সীতাকুন্ডের গুলিয়া সমুদ্র সৈকত। খুব কাছ থেকে পাহাড়ী ঝর্ণা ও সমুদ্রের উত্তর তরঙ্গ উপভোগ করতে পারবে পর্যটকরা। সৌন্দর্য্য উপভোগে পর্যটকের ভীড় জমতে থাকায় গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনে রুপ দিতে নেয়া হয়েছে নানা-পরিকল্পনা। ধীরে ধীরে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কক্সকাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটনকদের ছাপ কমাতে গুলিয়াখালী সমুদ্রতীরকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রুপ নেওয়া হবে। সীতাকুন্ডে পর্যটকদের আকৃষ্ট অন্যতম কারণ, এখানে গুলিয়া সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক, সু-উচ্চ চন্দ্রনাথধাম, ভাটিয়ারি গলফ ক্লাব সংলগ্ন ভাটিয়ারি লেক, বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ছোট দারোগারহাট সহস্র ধারা ঝর্নাসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলায় একাধিক পর্যটন স্থান থাকায় পর্যটকদের সুবিধার্ধে বেসরকারিভাবে এসি/ননএসি হোটেল ও অভিজাত রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে’।