সিলিন্ডারের নয় প্রকৃতির অক্সিজেন চাই

17

বন্দরনগরী কিংবা বাণিজ্যিক রাজধানী যা বলিনা কেন, আমাদের এই চট্টগ্রাম শহরের প্রাণ কেন্দ্রে রয়েছে সিআরবি এলাকা। সিআরবি এলাকায় রয়েছে সবুজে ঘেরা সারি সারি সুবিশাল বৃক্ষ। যে গুলোর বয়স একশো দুইশো বা আরো ঊর্ধ্বে। বয়সে প্রবীণ হলেও শতবছরে গাছগুলো ধরে রেখেছে তাদের সবুজে সবুজে তারুণ্যতা। বৃক্ষরাজিবেষ্টিত সিআরবির শিরিষতলা এলাকায় প্রকৃতির সবুজ বেষ্টিত জায়গাটিকে বলা হয় চট্টগ্রামের ফুসফুস।
ইট-পাথরের খাঁচায় বন্দি মানুষ সময় কাটাবে কিংবা বুকভরে নিঃশ্বাস নেবে- এমন উন্মুক্ত পরিসর খুব একটা অবশিষ্ট নেই এই চট্টগ্রাম নগরীতে। কেবল সিআরবিতে এখনও টিকে আছে অনেক শতবর্ষী গাছগাছালি, ছোটবড় অনেকগুলো পাহাড়। এছাড়া আরো আছে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত সিআরবি ভবন যা চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা, এটি প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক মূল্য রয়েছে।
এছাড়া পয়লা বৈশাখ নববর্ষ পালন, বসন্ত উৎসবসহ নানা অনুষ্ঠান পালন করা হয় এই সিআরবি এলাকায়। স্বর্গসম এ জায়গাটিতে হাসপাতাল হলে এখান থেকে বিতাড়িত হবে প্রকৃতির প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী, কাটা পড়বে অনেক গাছগাছালি, সৃষ্টি হবে মেডিকেল বর্জ্য, গড়ে উঠবে দোকানপাট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়বে মানুষের আনাগোনা, সৃষ্টি হবে কার্বণ ডাইঅক্সাইডসহ বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ। অথচ সিআরবি হচ্ছে চট্টগ্রামের কার্বন শোষণ ও অক্সিজেন তৈরির প্রাকৃতিক কারখানা। এখানে শতবর্ষী গর্জন শিরিষ ও রেইনট্রিসহ অনেক গাছ রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন পাকপাখির কোলাহল, সাধারণ মানুষ বসার জন্যে আছে সুপরিসর জায়গা, সকালবিকাল হাঁটার জন্যে আছে আঁকাবাকা পথ। প্রকৃতিতে সাজানো গুছানো এমন গণসামাজিক জায়গায় ইটপাথর কংক্রিটের ভারী স্থাপনা নির্মাণের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সত্যিই দুঃখজনক। যা লেখার মাধ্যমে প্রকাশের ভাষা নাই, ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে রাগ নিবারণের উপায় নেই। অথচ শহরের নিরব নিস্তদ্ধ অনেক এলাকা, রয়েছে যেখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা যায়। কিন্তু শহরের মাঝখানে হাসপাতাল নির্মাণের মত হঠকারী সিদ্ধান্ত কোনক্রমেই আমরা গ্রহণ করতে পারিনা। কারণ আমরা হাসপাতাল নয়, নৈসর্গিক পরিবেশ চাই। আমরা সিলিন্ডারের নয় প্রকৃতির অক্সিজেন চাই।