সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে

16

দীর্ঘ সময় ধরে অস্থির বাজারে যখন ডিম আর সবজির মূল্য কিছুটা হ্রাস পেতে শুরু করেছে তখন চালের বাজার আবারও অস্থির করতে মরিয়া কথিত সিন্ডিকেট। এ কথা ঠিক যে, ডিম আর সবজি বাদ দিলে বাকি সব ভোগ্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এমতাবস্থায় চালের বাজার নিয়ে আবারও চালবাজির প্রয়াস জনমনে অস্বস্থি বেড়ে গেছে। হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধিও এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। গণমাধ্যম কর্মীরা এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন হরতাল-অবরোধের কারণে গাড়ি চলাচল করতে না পারায় দাম বাড়ছে। বাস্তবে সম্প্রতি বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি নিয়ে অবরোধ ও হরতালের নামে যে আন্দোলন করে যাচ্ছে তাতে এমন কঠোর কোন অবরোধ বা হরতাল পালন হচ্ছে না, যাতে নিত্যপণ্যের যানবাহনের বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। মূলত বরাবরের মত টুনকা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। খাদ্য বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাশাপাশি মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কোনো সংকট নেই। এরপরও অস্থির হয়ে উঠছে পণ্যটির দাম। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মান ও বাজারভেদে মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৪, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ এবং সরু চালের কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মিল মালিকদের কারসাজিতে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সরু ও মোটা চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। গরিবের চাল ব্রি ২৮-এর দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা। একই অবস্থা মাঝারি মানের চালেরও। শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই কাজ। নতুন ধান বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে চালের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। ধান কাটার মৌসুম এলেই মিলাররা চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ায়। এবারো ব্যতিক্রম হয়নি। ধান-চালের যথেষ্ট মজুত থাকলেও সরবরাহ নেই, হরতাল-অবরোধসহ নানা অজুহাত তারা দাঁড় করাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েন নিম্নবিত্তের মানুষ এবং যাদের আয় সুনির্দিষ্ট। যাদের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই এবং যারা নির্দিষ্ট বেতন পান তারাই বেশি নাজুক অবস্থায় পড়েন। জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর চাল, গম ও ভুট্টার উৎপাদন ৩ কোটি ৯০ লাখ টনেরও বেশি। এ পরিমাণ উৎপাদনে বাজারে চাল আটার ঘাটতি বা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা নয়। এরপরও কারা দেশের মানুষের খাদ্য বাজার নিয়ে টালবাহানা করেন, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি। আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল; বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষকে প্রচুর পরিমাণে ভাত খেতে হয় শুধু শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য নয়, তাদের আমিষেরও একটা বড় অংশ আসে ভাত থেকে। তাই চালের দাম যেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়সাধ্যের সীমা অতিক্রম না করে, সরকারকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে যাদের উপর তদারকির দায়িত্ব রয়েছে, তারা দৃঢ়তার সাথে সেই দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে পারছেন কিনা সে প্রশ্নটি সামনে আসছে। এখন নির্বাচনকালীন সময়, সরকারের সব কিছু মূল্যায়ন করছেন জনগণ। তাই আমরা মনে করি, সরকারকে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। ভাঙতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। অতীতেও আমরা লক্ষ করেছি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বা তুচ্ছ অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এটাও লক্ষ করা গেছে, বহু মিলার সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এমনকি ধানের মৌসুমেও চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়। কাজেই চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেট যাই বলা হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।