সিডিএফএ কিশোর ফুটবল ফাইনাল স্থগিত নিজের খোঁড়া গর্তে কিষোয়ান

8

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফ্রেন্ডস ক্লাবের হাছে হেরে গ্রæপ লিগ থেকেই বিদায় নিয়েছিল কিষোয়ান স্পোর্টস ক্লাব। তবে প্রটেস্ট করে এ ম্যাচের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিজের পকেটে নিয়ে সেমির টিকেট নিশ্চিত করে তারা। গতকাল সেমিফাইনালে দাপটের সাথে খেলে তারা ৩-১ গোলে হারায় পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী আবদুস সোবাহান ফুটবল দলকে। কিন্তু তাদের ফাইনাল খেলাও অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছে। কারণ
তারাও অবৈধ খেলোয়াড় খেলিয়েছে মর্মে প্রটেস্টের শিকার হয়েছে। যার হ্যাটট্রিকের সুবাদে সেমিতে জিতেছে সে সাফাতুর এর বয়স নাকি ১৫’র চাইতে এক বছর বেশি। সে গত বছরও একই টিমে খেলেছে, আর এ বছর জাল সার্টিফিকেট দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। অভিযোগকারীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ডকুমেন্ট সাবমিট করেছেন বলে জানা গেছে। এক খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে দুই মওসুমে দুই ধরণের ডকুমেন্ট দেয়াটাও অপরাধ। তার উপর সে সদ্যসমাপ্ত বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টেও খেলেছে যার কাগজপত্র জেলা ক্রীড়া অফিসেও রয়েছে। তবে তার ডকুমেন্টগুলো কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই বলেই জানা গেছে। আরো অদ্ভুত ব্যাপার হলো, তার ছবিতেও রয়েছে গরমিল। তাহলে তার রেজিস্ট্রেশন হলো কিভাবে? এর দায় অবশ্য নিবন্ধন কতৃপক্ষও এড়াতে পারে না। বিদঘুটে এ পরিস্থিতিতে ঘন্টার পর ঘন্টা বৈঠক করেও সিদ্ধান্তে আসতে না পেরে গলদঘর্ম সিডিএফএ কর্মকর্তারা আজকের ফাইনাল স্থগিত করে দিয়েছেন। ম্যাচটি ১১ আগস্টের পর হতে পারে বলে জানা গেছে।

ক্লাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ, শাস্তি ও বিতর্ক

গত ৬ আগস্ট মাদারবাড়ি শোভনীয়া ক্লাব বনাম আগ্রাবাদ নওজোয়ান (গ্রীণ) খেলায় শোভনীয়া ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তা রেফারীর সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষন করে অশোভন আচরণ করে খেলায় বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন বলে রেফারি অভিযোগ করেছেন। খেলা পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদেরকে উদ্দ্যেশ্য করে অসৌজন্যমূলক কথা-বার্তা এবং উষ্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন মর্মেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। দুঃখজনক এবং সুষ্ঠুভাবে খেলা পরিচালনার পরিপন্থী এ কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ডিসিপ্লিনারী কমিটির সভায় তাদেও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিজেকেএস-সিডিএফএ এর ফুটবল উপ-বিধির ধারা-১৪ এর ‘ঘ’ মোতাবেক ও কিশোর (অ-১৫) ফুটবল লিগ ২০২২ এর উপ-বিধি অনুযায়ী মাদারবাড়ি শোভানীয়া ক্লাবের প্রশিক্ষক মো: মহসিন সাজু ও ক্লাবের কর্মকর্তা মোর্শারফ হোসেন লিটনকে আগামী ৩ (তিন) ম্যাচের জন্য মাঠে প্রবেশ করা হতে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শোভনীয়া ক্লাবের আরেক কর্মকর্তা মো: আলমগীরকে আগামী ১ (এক) বছরের জন্য এম.এ আজিজ স্টেডিয়াম কমপাউন্ডে প্রবেশ হতে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, এ শাস্তি নিয়ে কেউ অভিযোগ না করলেও এর চাইতেও গুরুতর অপরাধকারীকে লঘু দন্ড দেয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক সংগঠক বলেন, ফ্রেন্ডস ক্লাবের বিপক্ষে খেলায় কিষোয়ান কর্মকর্তা ওয়াহিদ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পর রেফারির উপর চড়াও হয়, খেলা পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তারা না আটকালে ঐদিন রেফারির অবস্থা অন্যরকম হতে পারতো। মাঠে অবস্থারত কর্মকর্তারা ছাড়াও শত শত দর্শক বিষয়টি দেখেছেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এত বড় অপরাধে তাকে মাত্র এক খেলায় মাঠে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এটি বৈষম্যমূলক।