সিআরবিতে বিক্রি বেড়েছে দেড় কোটি টাকা

13

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিআরবির শিরীষ তলায় প্রথমবারের মত আয়োজিত ২১ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলার পর্দা নেমেছে গতকাল শনিবার। শুরুর দিকে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশক পরিষদের পক্ষে থেকে নানা শঙ্কা ছিল। শুরুর দিকে মেলা নিয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলেও শেষের দিকে পাঠক-লেখক আর দর্শনার্থীর ব্যাপক উপস্থিতিতে সেটি কাটিয়ে উঠেছে। নতুন জায়গায় বই বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশকরাও।
আয়োজক কমিটির তথ্য মতে, এবারের মেলায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা বেশি। গত বছর মেলায় বই বিক্রি হয়েছিল দুই কোটি ৯৭ লাখ টাকার। সে হিসেবে বিক্রি বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। মেলায় নতুন বই এসেছে প্রায় ৪০০টি। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও এবারের বইমেলা সার্বিকভাবে সফল হয়েছে বলে মনে করে মেলার আয়োজক কমিটি।
গতকাল বইমেলার শেষদিনে ছুটি থাকায় লেখক-পাঠকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মুখে। তবে বই বিক্রি আশানুরূপ না হলেও মেলা নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না প্রকাশকদের মাঝে। তাদের মতে, মেলা শুধু বই বিক্রির নয়, বই প্রর্দশর্নীরও স্থান। এই মেলার ওপর পুরা বছরের প্রকাশনী ব্যবসা নির্ভর করে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বইমেলা একটি চমৎকার জায়গা। সেদিক থেকে বিক্রিটা গৌণ বিষয়।
তৃতীয় চোখ প্রকাশনীর প্রকাশক আলী প্রয়াস বলেন, আশানুরূপ বিক্রি না হলেও মেলা নিয়ে সন্তুষ্ট। বইমেলা লেখক-পাঠকের সম্মিলন আর প্রকাশকদের বই প্রর্দশর্নীর জায়গা। তাছাড়া বইমেলা মুক্তচিন্তার সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মো. সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু বলেন, নতুন জায়গায় মেলার সফলতা নিয়ে প্রকাশকদের মাঝে শঙ্কা ছিল। তবে লেখক-পাঠকসহ সর্বস্তরের দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়ে বই বিকিকিনি লক্ষ্যমাত্রাকে ছাপিয়ে গেছে। যতটুকু আশা করছি তার চেয়ে বেশি হয়েছে। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও এবারের বইমেলা সার্বিকভাবে সফল হয়েছে।
মেলার আয়োজক কমিটির আহব্বায়ক ও চসিক শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, প্রথমদিকে মেলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশৃঙ্খলা ছিল। মেলা প্রাঙ্গণের ধূলাবালি, নিরাপত্তাসহ নানান বিষয়ে শঙ্কা ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া মেলা শেষ হয়েছে। গতবারের চেয়ে বইবিক্রিও বেশি হয়েছে। আশা করছি আগামীতে এ স্থানে মেলার আয়োজন নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না।
উল্লেখ্য, গত চারবছর ধরে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে বইমেলা হয়ে আসছে। তবে এবার জেলা প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় প্রথমবারের মত সিআরবির শিরীষতলায় মেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রামের সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ, নাগরিক সমাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাহিত্যিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্য শিল্প-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতরাই সম্মিলিতভাবে এ মেলা বাস্তবায়ন করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ সারা দেশের মোট ৯২টি প্রকাশনা সংস্থার মোট ১৫৫টি স্টল ছিল।