সিআরবিতে কোন হাসপাতাল হতে পারে না

21

 

সবুজ পাহাড়ে ঘেরা, নদী আর সমুদ্রে বেষ্টিত আমাদের এই প্রিয় চট্টগ্রাম বহু আগে থেকেই প্রাচ্যের রানী হিসেবে সুপরিচিত। তবে আধুনিকতার আধিপত্যে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ, গড়ে উঠছে আকাশচুম্বী অট্টালিকা। দিনে দিনে নগরায়নের ফলে চট্টগ্রাম থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে সবগুলো পাহাড়। ধীরে ধীরে একেকটা পাহাড় কেটে কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা কিংবা রাস্তাঘাট। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে প্রকৃতির অপরূপ দানগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য শতবর্ষী বৃক্ষরাজিতে সুশোভিত চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে চিহ্নিত আমাদের প্রিয় সিআরবি এলাকা। এই সিআরবি চট্টগ্রাম শহরের নাগরিকদের জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত। এখানে দৈনিক কোটি কোটি লিটার অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। সারা বিশ্বে চলছে করোনা মহামারি। এই মহামারিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে অক্সিজেনের অভাবে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে শ্বাসকষ্টের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগে ভুগে। এই সময়ে এসে সিআরবির মত এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা এলাকায় হাসপাতাল তৈরির চিন্তা আসে কাদের মাথা থেকে? তারা কি দেশকে ভালোবাসে না? করোনা মহামারিতে সংক্রমণ ও মৃত্যুহারের ঊর্ধ্বগতিতে এই সময়ে আমাদেরকে কেনো আন্দোলন করতে হচ্ছে সিআরবি রক্ষার জন্য? চট্টগ্রামের হেরিটেজ জোনের সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সিআরবি সিডিএর কাছে চিহ্নিত। এখানে কোনোভাবেই হাসপাতাল হতে পারে না।
নগরজীবনের ব্যস্ততায় আমরা যখন হাঁপিয়ে উঠি তখনই সপরিবারে ছুটে যাই সিআরবিতে, প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে। বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রাতঃভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সিআরবিতে। দূরদূরান্ত থেকে স্কুল-কলেজ ছুটি শেষে তরুণেরা দলে দলে ছুটে আসে খেলাধুলা করার জন্যে। পহেলা বৈশাখের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক অনুষ্ঠান হয় এই সিআরবিতেই। হাজার বছরের সাক্ষী বড় বড় বৃক্ষের ছায়াতলে শীতল-নির্মল-সতেজ বাতাসে যে কারোরই মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। প্রচন্ড গরমের মাঝেও মধ্য দুপুরে যখন চারিদিক প্রচন্ড তাপদাহে খাঁ খাঁ করে ওঠে তখনও সিআরবি এরিয়া থাকে শীতল, অন্যরকম এক মায়াবী শান্তি অনুভ‚ত হয় এ এলাকায়। কবি সুকান্তের সেই কবিতাটা বারবার মনে ভাসে, ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার!’ আমরা কি দিয়ে যাবো আমাদের প্রজন্মকে? সিআরবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কোনভাবেই ধ্বংস করা যাবে না। সিআরবিকে অক্ষত রাখতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।
আমরা চাই না আমাদেরকে আমাদের প্রজন্ম কোনভাবেই দায়ী করুক। সিআরবি এরিয়াতে কোনোভাবেই হাসপাতাল হতে পারেনা। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের কিংবা সাধারণ জনগণের জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা চাই হাসপাতাল হোক, তবে তা উপযুক্ত জায়গায়। আমাদের প্রিয় সিআরবিতে নয়।