সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চুয়েটে

7

রাউজান প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের পর এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল ক্যাম্পাস। গতকাল থেকে পুনরায় ক্যাম্পাস খুলেছে এবং শিক্ষার্থীরা ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু তারা ক্যাম্পাসে এলেও গতকাল ও আজকের ক্লাস পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষার্থীরা জানান, ১৪ জুন বিকেল ৫ টার মধ্যে ২২ দিনের বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে বাধ্য করে প্রশাসন। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ২২ দিনের পরিবর্তে তা ৭ দিন করা হয়। এতে দূরের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে গাড়ির টিকিট করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেককে।
এদিকে সিলেট ও রংপুর বিভাগে ভয়াবহ বন্যার কারণে সে অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য চুয়েটে ফিরে আসা খুবই কষ্টসাধ্য। এসব নানা দিক বিবেচনা করে চলমান চারটি ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগে এ সপ্তাহের বাকি দুই দিন ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং ২৬ জুন থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে একমাত্র পুরকৌশল বিভাগের ৪র্থ বর্ষের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা।
চুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন বিষয়ে চুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফারুক উজ জামান চৌধুরী জানান, বুধবার চুয়েট খুললেও কোন শিক্ষার্থী ক্লাসে আসেনি। কি কারণে তারা আসেনি, সেই সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি।
চুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. রফিকুল আলম জানান, চুয়েট বুধবার থেকে খুলেছে। যেসব শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সেসব শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা বর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে এখনও ডিনরা প্রতিবেদন দেননি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির জেরে চুয়েট প্রশাসন প্রথমে ২২ দিন ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা দেয়। কয়েক ঘণ্টা পর তা সাতদিন করে আবাসিক হলের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।