সাধারণ যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত করুন

11

স্বপ্নের পর্যটন নগরীতে স্বপ্ন্রে ট্রেনে যাব-এটিও ছিল কক্সবাজারগামী সাধারণ যাত্রীদের বড় স্বপ্ন। কিন্তু তা এখন অধরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালুর পর কয়েকদিন সব ঠিকমত চললেও এখন সেই কালোবাজারির কাছেই চলে যাচ্ছে ট্রেনের টিকিট। ফলে কক্সবাজারের পর্যটকদের স্বপ্নভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। গতকাল দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়া ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হলেও মাত্র কয়েকমিনিটের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। কিভাবে সব টিকিট মুহূর্তে বিক্রি হয়ে যায়, এর খোঁজ নিতে গিয়ে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। খবরে প্রকাশ অনলাইনেতো নেই, অপলাইনেও হাহাকার। লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাওয়া যেন ‘সোনার হরিণ’ এ পরিণত হয়েছে। তবে বাড়তি টাকা দিলেই কালোবাজারিতে মিলছে টিকিট। অবাক হওয়ার বিষয়, কালোবাজারিরা রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট দিয়েই বিক্রি করছেন এসব টিকিট। স্বপ্নবাজ মানুষের স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিট কালোবাজারিরা। নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অনলাইনে টিকিট নিতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। কয়েক সেকেন্ডেই উধাও হয়ে যাচ্ছে অনলাইনের প্রায় সব টিকিট। অনলাইনে টিকিট না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে একজন লিখেন, ‘ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে ৬ মার্চের (১০দিন আগে) ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে সার্ভারে ঢুকে বসেছিলাম। কারণ ৮টায় সার্ভার খ্লুবে। ৮টায় সার্ভার খুলল বটে, কিন্তু ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আর কোন সিট খালি নেই! মাত্র ৩০ সেকেন্ডে সব সিট বিক্রি হয়ে যাওয়া কীভাবে সম্ভব! টিকিট কাটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগে! জানি না ভূতেরা ট্রেনে করে সমুদ্র দেখতে যায় কিনা!’ গত নভেম্বরে কক্সবাজার লেইনে ট্রেন সার্ভিস চালুর পর ১৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করতে কক্সবাজার আদালতে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেন কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-১ এর বিচারক শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি টিকিট কালোবাজারি দমনে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে গিয়ে সরেজমিন প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু করেন র‌্যাবের কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আবু সালাম চৌধুরী। তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ট্রেনটি এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। এখন স্বপ্ন নিয়ে খেলছে কালোবাজারির দল।
র‌্যাবের তদন্তের খবর পেয়ে উধাও হয়ে যায় কালোবাজারির দল। পাওয়া যেত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। কিন্তু মাস যেতে না যেতেই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালোবাজারির দল। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে কর্মকর্তা ও এনআরবি সদস্যদের যোগসাজশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চলছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক র‌্যাবের তদন্তের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যারা অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, কিভাবে তাদের প্রতিহত করা যায় সেভাবে কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রেলের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। অপরদিকে র‌্যাবের কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে অনেক কিছু পাওয়া গেছে। আদালতে প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করা হবে। আমরা জানি, কক্সবাজার এক্সপ্রেসের পাশাপাশি যাত্রীর চাপ বিবেচনা করে এ রুটে দ্বিতীয় আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে ১০ জানুয়ারি থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস নামে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫) কক্সবাজার থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে ঢাকার কমলাপুর আসে ভোর সাড়ে ৪টায়। অন্যদিকে, ঢাকার কমলাপুর থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) ছেড়ে যায় ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে। কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছায় বেলা ৩টায়। আমরা আশা করি, চলমান তদন্তের দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল হবে। সেই সাথে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।