সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবীদের ভোগান্তি বিবেচনা করা জরুরি

0

দেশে দ্বিতীয় দফায় এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়ে প্রথম দিন অতিবাহিত হতেই দেখা গেলো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় কর্মজীবী ও ঘরে ফেরা মানুষ গণপরিবহন না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ার দৃশ্য। অন্যদিকে নগরীর তামাকুমন্ডি লেন ব্যবসায়ী সমিতি শপিংমল খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছে। তাছাড়া পত্রিকান্তরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ লকডাউন বিরোধী মানববন্ধন, সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাল দিতে পারছে না। দেশে চাকরিজীবীর চেয়ে ব্যবসাসংশ্লিষ্ট ও কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনকারী লোকজনের সংখ্যা বেশি। চাকরিজীবীদের মধ্যে সকল চাকুরিদানকারী কর্তৃপক্ষ চাকরিজীবীদের জন্য পরিবহন সুবিধা দেয়নি। যে কারণে অধিকাংশ শ্রমজীবী ও জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, টেম্পো করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়ায় সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে যাত্রা করতে দেখা যাচ্ছে। সড়কে গণপরিবহন চললেও তাতে সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির যে নিয়ম করে দিয়েছে তা গণপরিবহনের শ্রমিকরা মানছে না। তারা যাত্রী সাধারণের নিকট থেকে শত ভাগের অধিক ভাড়া আদায় করছে। করোনা সংক্রমণ সম্প্রসারণ রোধের অজুহাতে গণপরিবহন শ্রমিক মালিকদের জুলুম নির্যাতন বেড়েছে। করোনাকে তারা জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা করোনার অজুহাতে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। করোনা কারো জন্য ব্যবসার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভালো নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিক ব্যয়ভার সামলাতে পারছে না। তার উপর খাদ্যদ্রব্য হতে সব ধরনের মালামালের যে ঊর্ধ্বগতি তা জনজীবনকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার আর এক প্রতিবেদন হতে জানা যায়Ñগত মার্চ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। যা বিগত বছরে অনেক মাসের করোনায় মৃত্যু হারকেও অতিক্রম করেছে।
আমাদের দেশে আইন ও নিয়ম মানার পরিবেশ ও মানসিকতার সংকট রয়েছে। মানুষ আবেগকে যতটুকু প্রাধান্য দিতে দেখা যায়, তার চেয়ে বিবেককে কম প্রাধান্য দেয়। অনেককে এমন বলতেও শুনা যায়, “আমরা করোনায় মরি কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় মরি তাতে সরকারের কি? বাঁচার জন্য না খেয়ে মরতে তো পারবো না।” বিগত লকডাউনের সময় সরকার সাধারণ মানুষের জন্য যে সহায়তা করেছিল তা যথাযথভাবে সাধারণ মানুষ পায়নি। যার কারণে মার্চ ২০২০ এ সাধারণ মানুষ লকডাউনও সম্পূর্ণ মানতে দেখিনি। বর্তমানে দ্বিতীয় দফার লকডাউনও মানুষ মানতে চাচ্ছে না। তবে বিগত এক বছর সরকারি সিদ্ধান্তে মানুষ প্রতিবাদ করেনি। ২০২১ সালে এসে করোনা মহামারী সংক্রমণ বৃদ্ধির সময়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সরকারি লকডাউন বিধির প্রতিবাদ করছে। এ অবস্থা জাতির জন্য শুভ নয়। তবে সরকারের নীতি নির্ধারকদেরও যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।