সাগরকন্যার পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত

93

কবি আল মাহমুদের ৮৪তম জন্মদিনের পরিচয় স্মারক হিসেবে সাগরকন্যার এবারের আয়োজন ছিল-তরুণদের ভাবনায় কবি আল মাহমুদ। চুরাশিজন তরুণের গদ্যে সাতজন তরুণের সাক্ষাতকার গ্রহণ এবং তিন তরুণের অনুবাদে সাজানো এ কাগজটির পাঠ আলোচনা তরুমন প্রকাশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২০ ডিসেম্বর। বিকেল চারটায় চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুরনাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী শরীফ মাহমুদ। কাগজের নির্বাহী সম্পাদক ইলিয়াস বাবরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাগরকন্যা সম্পাদক কবি মোস্তফা হায়দার।
শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক সামসুদ্দিন শিশিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের অতিথি আলোচক দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক, কবি ও আল মাহমুদ গবেষক কমরুদ্দিন আহমদ কবি আল মাহমুদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘কবি আল মাহমুদের সোনালি কাবিন সনেট আন্তর্জাতিকতা লাভ করেছে। সনেটের জনক কবি পেত্রাক এর চেয়ে আল মাহমুদের সনেট সর্বজনীনতা লাভ করতে পেরেছে এবং কবির পরবর্তী প্রজন্ম কবিকে সঠিকভাবে ধরতে পারার মতো একটা কাজ হয়েছে সাগরকন্যার এবারের আয়োজন। প্রজন্মরা কবিকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে কোন কার্পন্য করেনি। সাগরকন্যার তরুণ লিখিয়েদের আমি স্যালুট জানাই।
বিশেষ আলোচক ছিলেন দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার সিনিয়র সহকারী সম্পাদক পুস্পকরথ সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক হাফিজ রশিদ খান। তিনি আলোচনায় বলেন, একজন কবি সাধকের আসন ধরার মতো বাংলাদেশ বুকে নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েই থাকবেন কবি আল মাহমুদ। আল মাহমুদই কবিতা ও সাক্ষাৎকারের বিনিময় সফলভাবে নিতে পেরেছেন। এ সময়ে কবিতা সম্মেলনগুলো যে কোন কবিকে সম্মান জানাতে গিয়ে যাতায়াত বিনিময়ের বিষয়ে যথেষ্ট উদাসিনতার পরিচয় দেন। অথচ কবিরা সত্যের কাছে দায়ী থাকে বলে অনৈতিকতা বা বুর্জোয়াগিরি গ্রহণ করতে পারে না। কবি আল মাহমুদও বেঁচে থাকার জন্য নিজের স্বার্থে সচেতনতার আশ্রয় নিতে গিয়ে ভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছেন, যা সময়ের সাথে যায় না। কবি আল মাহমুদ একজন ভাষা সৈনিক ও সম্মুখ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি সাগরকন্যার মাধ্যমে আবার পঠিত হতে চলেছেন। সাগরকন্যা সম্পাদক ও সম্পাদনা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই।
মুখ্য আলোচক দৈনিক আজাদী’র সহযোগি সম্পাদক কবি ও শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ বলেন, সমালোচনা আলোচনার মাঠ পেরিয়ে ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ এবং উপমার সঠিক প্রাঞ্জল উপস্থাপনের জন্য বাংলাসাহিত্যে আল মাহমুদ বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় হয়েই বেঁচে থাকবেন। কবি আল মাহমুদ তিতাস পাড়ের কবি হলেও চট্টগ্রামকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে তার কিশোর কবিতায় ধারণ করেছেন। যা অন্যরা পারেনি। আল মাহমুদ যুৎসই শব্দ প্রয়োগের জন্য সারা বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে থাকবেন। বছর কয়েকপরে ব্যক্তি আল মাহমুদের সমালোচনা হারিয়ে যাবে, বেঁচে থাকবে কবি আল মাহমুদই। আল মাহমুদকে তার পরবর্তী প্রজন্ম আল মাহমুদের বড়ত্ব উপলব্ধি করে যথার্থ একটি সংখ্যা সাগরকন্যা উপহার দিয়ে আমাদের কবিদের কর্ম বেঁচে থাকার প্রয়াসও বটে। এজন্য সাগরকন্যা পরিবারকে সাধুবাদ। অনুষ্ঠানের সভাপতি শিক্ষাবিদ সামসুদ্দিন শিশির বলেন, কবি আল মাহমুদের মতো একজন বড় কবিকে নিয়ে তরুণদের ভাবনায় সাগর কন্যার এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে কবি আল মাহমুদের যথার্থতা বহণে সক্ষমতার পরিচায়ক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গল্পকার ও অনুবাদক ফারজানা রহমান শিমু, কবি নুরনাহার নিপা, গল্পকার বিচিত্রা সেন, কবি আরিফা সিদ্দিকা, কবি অভি ওসমান, কবি ও মুক্তিযোদ্ধা শুক্কুর চৌধুরী, প্রাবন্ধিক ফারুক জাহাঙ্গীর, কবি মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, কবি সামাদ দাশ, কবি আকাশ আজিজ, কবি ও শিশুসাহিত্যিক আল জাবিরী, গল্পকার আলী আসকর, কবি অভিলাষ মাহমুদ, কবি আবদুল্লাহ মজুমদার, কবি ও গল্পকার প্রদীপ প্রোজ্জ্বল, কবি ও শিক্ষক মাহমুদ হাসান, কবি ও ঔপন্যাসিক অনার্য আমিন, ছড়াকার সাইমুন পাশা মামুন, ছড়াকার আহমেদ পলাশ, গল্পকার মিলন বনিক, রিয়াজ মোরশেদ সায়েম, কবি সুজন আহসান, কবি খোরশেদ মুকুল, তৌহিদ আরিয়ান, ছড়াকার ও চাঁদের হাটের সভাপতি সাইফুল্লাহ কায়সার, ছড়াকার লিটন কুমার চৌধুরী, কবি ও শিশুসাহিত্যিক অরুণ শীল, বাবুই সম্পাদক মুহাম্মদ নাজমুল হাসান, কবি সায়েম উদ্দিন, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, কিশোর ঔপন্যাসিক আরকানুল ইসলাম, কবি ও সম্পাদক আকাশ ইকবাল, ছড়াকার উৎপল কান্তি বড়ুয়া, ডিজাইনার আমিনুল রাকিব, শাহারিয়ার, খালেদ সাইফুল্লাহ ও মো. রাসেল প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি