সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বমানে উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

41

স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশ। এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। তাই, স্বাধীন দেশের মতো করে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি’।
পিজিআর সদস্যদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই রেজিমেন্টের সদস্যরা অত্যন্ত সাহস, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আপনাদের সততা, একনিষ্ঠতা এবং দেশপ্রেম সত্যিই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে’।
এর আগে দুপুরে রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে পৌঁছে একদল চৌকষ গার্ডের অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শন বইয়ে সই করার পর তিনি ঘুরে ঘুরে পিজিআর সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী রেজিমেন্ট সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সাথে পিজিআর সদস্যরা ফটো সেশনে অংশ নেন।
রেজিমেন্টের যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় মারা গেছেন প্রধানমন্ত্রী সেসব শহীদদের পরিবারের সদস্যদের উপহার ও অনুদান দেন। খবর বিডিনিউজের
১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিজিআর দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সরকারিভাবে ঘোষিত যে কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, গার্ডসরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। তাই তার পক্ষ থেকেও গার্ডসদের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা সব সময়ই থাকে বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠন করার পর পিজিআরের জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু করার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর জনবল ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি করা এবং আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। পিজিআরে কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ প্রীতিভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।