সরকার গঠনের রূপরেখা ছিল হেফাজতের!

23

সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ক্ষমতার মোহে একসময় অন্ধ হয়ে পড়েন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে চালানো হয় সহিংসতা।
সম্প্রতি দেশজুড়ে তান্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে দলটির সরকার বিরোধী নানা পরিকল্পনা। শুধু সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পতনই নয়, ক্ষমতায় গেলে নিজেদের সরকার গঠনের রূপরেখাও চূড়ান্ত করেছিলো দলটি। পুলিশ সূত্র জানায়, হেফাজতের সবচেয়ে আলোচিত নেতা মামুনুল হককে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিনিয়তই নানা ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকে ক্ষমতায় যেতে প্রায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি ছিলো হেফাজতের। এজন্য সাম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ তথাকথিত মন্ত্রিসভার জন্য দলের নেতাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি ছিলো হেফাজত ইসলামের কল্পিত মন্ত্রিসভা। ৫ মে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা যদি বিতাড়িত না হতো তাহলে হয়তো পরের দিন একটা ‘তালেবান রাষ্ট্রের মতো’ রাষ্ট্র কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা ছিলো তাদের। খবর বাংলানিউজের
গ্রেপ্তার হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনার আগে তারা জুনায়েদ বাবুনগরীকে প্রধানমন্ত্রী এবং আল্লামা শফীকে রাষ্ট্রপতি করার পরিকল্পনা করে। পর্যায়ক্রমে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে একটি মন্ত্রিপরিষদ কাঠামোও গঠন করা হয়েছিলো।
২০১৩ সালের ৫ মে তান্ডবের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় বর্তমানে তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই সময়কার পরিকল্পনা এবং সহযোগিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে জমায়েতের সময় ঢাকার অন্যতম প্রবেশপথ গাবতলী এলাকার দায়িত্বে ছিলেন মামুনুল হক। নেতাকর্মীদের ঢাকায় প্রবেশ করিয়ে দুপুরের দিকে তিনি শাপলা চত্বরে যান। সেখানেই শীর্ষ নেতাদেরর মধ্যে একটা মিটিং হয়। মিটিংয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একযোগে মাঠে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল জানান, হেফাজত প্রথমে ১৩ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তারা এক পর্যায়ে রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা থেকেই হেফাজত নেতা-কর্মীরা জ্বালাও-পোড়াওসহ সহিংসতা শুরু করে। আর সেই তান্ডবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো মামুনুলের।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ৫ মের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় মামুনুলকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে মামুনুল হকের সঙ্গে আরও চার থেকে পাঁচ জন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যাদের সঙ্গে মামুনুল হক মানবিক বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলে অনৈতিক কাজ করতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের আরও ৪ থেকে ৫ জন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের সঙ্গে মামুনুল হক অনৈতিক কাজ করতেন। মামুনুল শুধু একটি বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পেরেছেন। অন্য কোনোও বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, তাবলিগ জামাতকে দুই ভাগ করার নেপথ্যেও মামুনুল হকের ইন্ধন ছিল। রমজানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে হেফাজতের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। গত ২৬ মার্চে শুরু হওয়া সহিংসতা রমজান পর্যন্ত টেনে আনার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মাদরাসায় পাওয়া দানের অর্থ নাশকতার কাজে ব্যবহার করতেন হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতায় এ অর্থ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।