সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ পদে ঐক্য ও ৭ পদে সমন্বয় জয়ী

11

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা। গত রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর গতকাল সোমবার ভোরে এ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, সমিতির ৫ হাজার ৬৩৬ জন ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪৯ জন এবার ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৭৯ শতাংশ।
সভাপতি পদে ঐক্য পরিষদের প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ২ হাজার ৭৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেন নাজিম উদ্দিন। সভাপতি পদে তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী আবু মো. হাশেম পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ঐক্য পরিষদের মো. আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক জয় পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ ফখরুদ্দিন জাবেদ পেয়েছেন ২ হাজার ১০৭ ভোট।
সমিতির মোট ২১টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ৭টি পদে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত কয়েক বছর সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে অন্তত একটি পদে সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। পাশপাশি ২১টি পদের মধ্যে বেশিরভাগ পদেই তারা জয় ধরে রাখতেন। গত বছরও সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ ১২টি পদে জয়ী হয়েছিলেন সমন্বয় পরিষদ প্রার্থীরা। এবার সেই নিয়ন্ত্রণ গেল বিএনপিপন্থি ঐক্য পরিষদের হাতে। সম্পাদকীয় ১০টি পদের মধ্যে ৭টিতেই জয়ী হয়েছেন ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা। পাশাপাশি ১১টি সদস্য পদের মধ্যে তারা ছয়টিতে জয়ী হয়েছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ঐক্য পরিষদ প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল কাদের ২ হাজার ২৬৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সমন্বয় পরিষদের মো. আজিজ উদ্দিন হায়দার, তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ১২৩ ভোট। সহ-সভাপতি পদে সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান খান ২ হাজার ৪৫১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩০ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ঐক্য পরিষদের মো. কাশেম কামলা ২ হাজার ৪৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সমন্বয় পরিষদের মো. আখতারুজ্জামান রুমেল পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৮ ভোট। অর্থ সম্পাদক পদে ঐক্য পরিষদের কাজী মো. আশরাফুল হক আনসারী জুয়েল ৩ হাজার ২২১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী খাইরুন্নিসা আখতার পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৬ ভোট। এছাড়া পাঠাগার সম্পাদক পদে ঐক্য পরিষদের আহমদ কবির করিম ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ঐক্য পরিষদের মারুফ মো. নাজেবুল আলম জয়ী হয়েছেন। আর ক্রীড়া সম্পাদক পদে সমন্বয় পরিষদের হাবিবুর রহমান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক পদে সমন্বয়ের অভিজিৎ ঘোষ জয়ী হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে ঐক্য পরিষদের আবদল্লাহ আল ফাহাদ (২ হাজার ৯১২ ভোট), ইমরান হোসাইন চৌধুরী (২ হাজার ৪০৬ ভোট), শাহ ইমতিয়াজ রেজা চৌধুরী নিশান (২ হাজার ২০৪ ভোট), নূর হোসেন (২ হাজার ১১০ ভোট), মো. শাকিল (২ হাজার ১০১ ভোট) এবং আয়েশা আক্তার সানজি (২ হাজার ৭৫ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। আর সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে মিঠুন দাশ (২ হাজার ৩৭৮ ভোট), মো. ফখরুল ইসলাম গালিব (২ হাজার ১৪২ ভোট), হাবিবুর রহমান (২ হাজার ৩৪৪) এবং আবু কাউসার পন্নি (২ হাজার ৯৩ ভোট) পেয়ে নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২ হাজার ৩২৮ ভোট পেয়ে সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিমুল আবেদীন চৌধুরী রায়হান। তিনি ঐক্য পরিষদ থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। সেখানে সুযোগ না পাওয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে ভোট করেন। এবার ২১টি পদের বিপরীতে সমন্বয় পরিষদ ও ঐক্য পরিষদের ৪২ জন এবং ৩ জন স্বতন্ত্রসহ মোট ৪৫ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন।