সন্দ্বীপে টিটিসি সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

25

 

সন্দ্বীপ উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ( টিটিসি ) প্রবেশ পথ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কাজের নির্বাচিত ঠিকাদার। স›দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্সে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দের এ রাস্তায় মাটি ভরাট, রিটেইনিং ওয়াল, এইচবিবি কাজ সহ আনুমানিক অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির আশংকা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মো. নাছির। তিনি জানান, ৩২০ ফুট রাস্তার মধ্যে আমি প্রায় ১৮৩ ফুট রাস্তা ঢালাই কাজের গত ১৭ জুন সম্পন্ন করেছি। বাঁধার কারণে বাকী ১৩৭ ফুট ঢালাই করার সম্ভব হয়নি। এ অর্থ বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। তিনি আরো জানান, বাঁধাসৃষ্টিকারী তর্কিত পথটুকু নিজের সম্পদ হিসেবে দাবি করলেও এর অনেকাংশ সরকারি খাস কিংবা অর্পিত সম্পত্তি বলে এলাকাবাসী মনে করেন। জানা যায়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য প্রকল্পে সুনির্দিষ্টভাবে কোন সড়ক তৈরীর পরিকল্পনা ছিল না। সাবেক স›দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ পথটি তৈরীর উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহি প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাস জমিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সড়ক নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন পূর্তবিভাগকে জায়গাটি হস্তান্তর করে। কিন্তু সেখানকার হেলাল সাহেব নামের এক ব্যক্তি জায়গাটির মালিকানা দাবি করে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। রাস্তা নির্মাণে বাঁধা প্রদানকারী স্থানীয় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ আকবর হেলাল বলেন, ঠিকাদার প্রস্তাবিত এ রাস্তা তৈরী করতে জোড়জবর দস্তিমূলক আমার মালিকানার প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এটি নির্মাণে আমার কাছ থেকে কোন অনুমতি বা ক্লিয়ারেন্স নেয়া হয়নি। রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করতে আমার আপত্তি নেই কিন্তু ডিপার্টমেন্ট আমার কাছ থেকে ত অনুমতি নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, প্রকল্প এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করেছি।
আমার মনে হয় নির্মাণ বিভাগ ভূমির মালিক হেলাল সাহেবের সাথে আলাপ করলে সমস্যাটির সমাধান হয়ে যেত। বিদেশগামী জনশক্তির প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে করিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির ভবন নির্মাণ কার্যক্রম প্রায় শেষদিকে। তবে সড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব না হলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু করতে নানা জটিলতা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে।