সন্তানের সুন্দর জীবন ও মায়ের ভূমিকা

7

নেছার আহমেদ খান

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দিবো’। ইসলামে বিয়ে-সাদির ব্যাপারেও রূপে, গুণে ও দ্বীনে উত্তম নারীর সন্ধান করতে বলা হয়েছে। দম্পতির ছেলে শিশু হবে নাকি মেয়ে শিশু হবে সেটা বিজ্ঞান বাবার ক্রোমজোমকে কৃতিত্ব দিলেও, ভুলে গেলে চলবে না তাতে মায়ের ক্রোমোজোম ও থাকে। যেগুলো শিশুর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ও আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন আসি মুল কথায়। বর্তমান যুগে এসে কিশোর গ্যাঙ,মাদকাসক্তি, অবাধ যৌনাচার-ব্যবিচার, পর্ণ আসক্তি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মোবাইল গেমিং আসক্তি ইত্যাদি অপকর্ম ও অপরাধে জরিয়ে পড়ছে অধিকাংশ উঠতি বয়সী ছেলে মেয়ে। ফলে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুনাগরিক হয়ে উঠার সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। এরজন্য মা-বাবা উভয়ই দায়ী,তবে মায়ের ভালবাসা, যতেœর সাথে দায়টাও বেশী পড়ে যায়। বিশেষ করে একক পারিবারিক ব্যবস্থা ও মা-বাবা উভয়ই চাকরিজীবী হলে এই সমস্যাটা বেশী হয়। এ ক্ষেত্রে সন্তানরা দিনের ৯০ ভাগ সময় মনিটরিং এর বাইরে থাকে। ফলে একাকিত্ব তার জন্য অপরাধ জগৎ ও অনৈতিক কর্মকাÐের দরজা খুলে দেয়। আর নাটক-সিনেমার রোমাঞ্চকর, অশীল,অ্যাডভ্যাঞ্চার বিষয়গুলো মাথায় রেখে তারা নিজেকে সিনেমাটিক পর্যায়ে নিয়ে যায়। এখান থেকে শুরু হয় তাদের পদস্খলনের যাত্রা, যার শেষটা ঘটে কোনো খুন, ধর্ষণ বা সুইসাইডের মধ্য দিয়ে। মাদকাসক্ত সন্তান ঐশীর মাধ্যমে পুলিশ দম্পতির হত্যাকাÐ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আর যদি কোনো মহিলা গৃহিণী হয়ে থাকেন, তাদের অসচেতন ও গাফিলতির জন্যও সন্তান পথভ্রষ্ট হয়। বিশেষ করে মা সন্তানের আচরণগত পরিবর্তন সহজে টের পান, যেটা পুরুষ অর্থ ও সংসারের পিছনে ছুটতে গিয়ে পারে না। বিশেষ করে মায়েরা মেয়ের সবচেয়ে কাছের মানুষ, তাই মেয়েদের সবকিছু মায়েরা জানে এবং বুঝে। তাই অধিকাংশ মেয়ের পথভ্রষ্টতার জন্য ৯০% মায়েদের গাফিলতি বা দায় থাকে। অপরদিকে একটা ছেলে নষ্ট হতে একটা স্মার্টফোন আর একটি বাইক ই যথেষ্ট। যার দায় সম্পূর্ণটা বাবাদের। ছেলের জীবনের কথা না ভেবে শখ পুরণ করতে গিয়ে মৃত্যুকে হাতে ধরিয়ে দেন তারা। আজকাল যত অঘটন ঘটছে সব স্মার্টফোনের বদৌলতে, যত কিশোরের মৃত্যু ঘটছে অধিকাংশ ই বাইক দুর্ঘটনায়। তাই প্রত্যেক মা-বাবার কাছে অনুরোধ থাকবে, নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে আরো বাস্তববাদী ও কঠোর হোন। এইচএসসি পাশের আগে স্মার্টফোন নয়, পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি সাধারণ বাইক কিনুন যেটা প্রয়োজনে কাজে লাগবে। আবার সন্তান লোক দেখানো বা হিরো সাজতে এই বাইক কে বাহিরে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না। আর মায়ের শাসন করার মতো মানসিকতা গড়ে তুলুন, সেটা না পারলেও অন্তত সন্তানের বাবাকে শাসন করা থেকে বঞ্চিত করবেন না। নয়তো একদিন সন্তান, সম্মান ও সুখ সবকিছু হারাবেন…