সত্য সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা

46

ইসমত আরা খানম কোহিনুর

আপনি আমি সবাই জানি আমাদের মানব জীবন স্বল্প দৈর্ঘ্যরে। ছোট্ট পরিসরের এই জার্নিতে পরিচয় হয় কত বিচিত্র মন মানসিকতার মানুষের সাথে। ভালো, মন্দ, বিবেকবান, বিবেকহীন, কত জাত, রং-ঢংয়ের মানুষের পদচারণায় মুখর এই দুনিয়া। এখানে কেউ সুখ খোঁজে, কেউ চেহারায় সুখী। সুখী মেকাপ মেরে নিজেকে পৃথিবীর সব চেয়ে সুখী মানুষের কাতারে দাঁড় করায়। দুনিয়ার সুখটা স্বল্প মেয়াদি। তবুও কি কাড়াকাড়ি! আরে-যেমনটি আছ, তাই নিয়ে সহাস্য বদনে থাকতে কি সমস্যা ! বরং তাতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি। কিন্তু আমরা পরাজিত, মোহের কাছে ব›িদ্ব। তাইতো সত্যের সাথে করতে পারিনা সন্ধি। পারিনা সত্য সুন্দরকে সহজ ভাবে মেনে নিতে। আফসোস ! যখন যে পরিস্থিতি, তা থেকেই আমরা ভালোটা খোঁজার চেষ্টা করিনা কেন ? সব কেন পজিটিভলি দেখতে পারিনা, কেন ? সব কিছুতে না- সূচক কিছু হাতড়ে বেড়াই- কেনো বুঝতে পারি না। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ অবশ্য এর ব্যতিক্রম -এটা আমি মনে করি। বাকিরা সবাই বুঝতে পারে- দুনিয়ার সুখটা আপেক্ষিক- আর যাঁরা এটা বোঝেন- আমি নিজেকে তাদের সারিতে দাঁড় করাই। কবে যে আমরা এর থেকে রেহাই পাব ?
পারিপাশ্বিক সব কিছু সুন্দর স্বাভাবিক ভাবে নেব, অন্যের ত্রুটি খুঁজে নিজের কুরুচির পরিচয় নাইবা দিলাম। কারো ভাল করতে না পারি, অমঙ্গলের চিন্তা থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখব, সেই চিন্তা আজ থেকে নিজেদের আয়ত্বে আনতে চেষ্টা করতে দোষ কি ? পৃথিবীর কিছু নোংরা চিন্তার মানুষ এই মহাজাগতিক ভ্রমণকারী জীবন নামক জার্নিতে অযথা ঝামেলার সৃষ্টি করে অন্যের অসুবিধা করবে বলে। হয়তো সে নিজেই জানেনা কেন সে এসবে জড়িয়ে পড়ে। হয়তোবা নিজের অলীক ভাবনার জাল থেকে নিজেকে বের করে সাদা মনের মানুষগুলির সাথে মানিয়ে নিতে পারেনা তাই। আসুন সবাই সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখি। অন্যের মঙ্গল কামনা করতে শিখি। নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজিরা দিই। নিজেকে অনন্তকালের জীবনের যোগ্য করে তোলার প্রেরণায় মনোনিবেশ করি। আল্লাহ্ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।