সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা না নিলে গ্রামও শহরের মতো ‘নষ্ট হবে’

37

গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাণ ও প্রকৃতির ‘বৈশিষ্ট্যকে’ ধরে রাখার পরামর্শ এসেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) এক আলোচনা অনুষ্ঠানে। তা না হলে এখন শহরগুলো যে দূরবস্থায় পড়েছে, গ্রামগুলোরও সেই অবস্থা হবে বলে সতর্ক করেছেন অনুষ্ঠানের আলোচকরা। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও গ্রাম উন্নয়ন নীতিমালা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে পরিবেশবাদী সংগঠনটি।
টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনকারী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামগুলোর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্রামগুলোকে শহরের মতো করে তোলার কথাও বলেছে দলটি।
গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে ভাবনার প্রশংসা করেন পবার আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিবেশ বিষয়ক স্থাপত্য গবেষক সজল চৌধুরী। তিনি সেইসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের চিন্তা করতে হবে গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রার কি কি স্বাভাবিক পরিবর্তন আনলে তারা একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশবান্ধব অবস্থানে তাদের নিজ গ্রামে বসবাস করতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে গ্রামীণ মানুষদের মতামত নিয়ে, তাদের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করতে হবে’।
বাংলাদেশের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শহরগুলোকে ইতোমধ্যে বসবাসের অনুপযোগী করা হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা না গ্রহণ করতে পারলে একদিন গ্রামগুলোও শহরের মতো নষ্ট হয়ে যাবে’। গ্রামের উন্নয়নের জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন সজল চৌধুরী। গ্রামের সব ভারসাম্য বজায় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের বৈষম্য দূর করায় গুরুত্ব দেন তিনি। খবর বিডিনিউজের
অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডে গ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার দিকটি তুলে ধরেন পবার সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহানও। তিনি বলেন, ‘গ্রামের খালগুলো ধ্বংসের জন্য দায়ী এলজিআরডি। কারণ গ্রামের যে খালের প্রস্থ ২০ ফুট, সেখানে তারা আট ফুট একটা কালভার্ট করেছে। এতে খালকে গলা চিপে হত্যা করা হয়েছে’। গ্রামের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মাঠ, কৃষিভূমি, পানি সম্পদ রক্ষায় নীতিমালা গ্রহণে জোর দেন তিনি।
গ্রামের বৈশিষ্ট্যকে ধরে রেখেই উন্নয়নে মত দেন ‘প্রাকৃতিক কৃষি আন্দোলন’র নেতা দেলোয়ার জাহান। তিনি বলেন, ‘এখন সবার মাঝে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে গ্রামে শহর হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রামের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শহর হচ্ছে মানুষের বসবাসের জন্য, আর গ্রাম হচ্ছে সকল প্রাণের বসবাসের জন্য। যা কিছুই করা হোক, এ বিষয়গুলো আমাদের মনে রাখতে হবে’।
বিদেশি পরামর্শক দিয়ে দেশের গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে উপযুক্ত বলে মনে করেন না পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমার গ্রামটা আমার মতো করে হবে। যদি বলা হয় এর জন্য একটি নীতিমালা করতে হবে তখন আমি শিউরে উঠি। কারণ কোনো নীতিমালার জন্য যখন ইউরোপ থেকে কাউকে আনা হবে, তখন তারা তাদের মতো করে একটা কিছু দিয়ে যাবে, যা পরবর্তীতে আমার সবকিছু এলোমেলো করে দেবে’। লেলিন বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে এমনিতেই গ্রামের উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, প্রাণ-প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বুয়েটের স্থাপত্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদা নিলুফার, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সেলিম রশিদ প্রমুখ।

­­