সঙ্গীত শিল্পী গফুর হালীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি

9

প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারী ও মরমি গানের কিংবদন্তী শিল্পী আবদুল গফুর হালীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, গফুর হালী একজন গুণী ও কালজয়ী সংগীত শিল্পী। কিন্তু তার অবদানের উপযুক্ত সম্মান তাকে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবেও তাকে সম্মানিত করা হয়নি। তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান বক্তারা। ২৩ ডিসেম্বর, শুক্রবার বিকালে পটিয়া মুন্সেফ বাজারস্থ একাডেমির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই স্মরণানুষ্ঠানে ছিল আলোচনা, স্মৃতিচারণ, সংগীত সন্ধ্যা। একাডেমির উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে ও প্রত্যয় একাডেমির সদস্য শিবু মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগীত শিল্পী ও পরিচালক সনজীত আর্চায্য।
তিনি বলেন, আবদুল গফুর হালী আঞ্চলিক, মাইজভান্ডারী ও মরমি সংগীত স্রষ্টা। তিনি শুধু গান ও সুরের সৃষ্টি করেননি, করে গেছেন আধ্যাত্মিক চর্চাও। গুণী এই শিল্পীর সৃষ্টি আমাদের সবার কাছে তুলে ধরতে হবে। তার গানের চর্চা ও প্রসারে সবাইকে আরো উদ্দ্যোগ নিতে হবে। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য সংগীত শিল্পী কল্যাণী ঘোষ। তিনি বলেন, গফুর হালী নিজে আমাকে তার রচিত গান শিখিয়ে দিতেন। তিনি চট্টগ্রামের গান নিয়ে এতটাই কাজ করেছেন যে, তার কাজের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গানের ভান্ডার ঋদ্ধ হয়েছে। এমন বিরল প্রতিভার মানুষ সচরাচর পাওয়া যায়না।
অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব বলেন, আবদুল গফুর হালীর মত গুণীদের সম্মান করে ও তার শিল্পকর্ম চর্চা করে তা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রত্যয়। একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি বলেন, গফুর হালী পটিয়া তথা সারা বাংলাদেশের রত্ন। সে জন্য প্রতিবছর আমরা তাঁর স্মরণানুষ্ঠান এবং তার স্মরণে শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তিনি প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির মিলনায়তন আবদুল গফুর হালীর নামে করার ঘোষণা দেন। গফুর হালীকে নিয়ে আরো স্মৃতিচারণ করেন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক, টিআইবি) সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মিত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, জনতা ব্যংক ব্যবস্থাপক রোকন উদ্দিন, মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি পটিয়া উপজেলার সমন্বয়কারী মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল, শিল্পী গীতা আচার্য্য, শিশু সংগঠক আলমগীর আলম, চিত্র শিল্পী হামেদ হাসান, ম্যাজিক বাউলিয়ানা-২০১৯ চ্যাম্পিয়ন শিল্পী নয়ন শীল, শিল্পী আলাউদ্দীন কাওয়াল, একাডেমির সমন্বয়ক এমরান হোসেন রাসেল, সিনিয়র সদস্য আবদুল আল মোমেন, মোহাম্মদ সাকিব প্রমুখ।
কথামালার ফাঁকে গফুর হালীর কালজয়ী গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে শিল্পীদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন।