সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে হবে

4

দেশে ডিজেল চালিত গাড়ির সংখ্যা বেশি। কৃষিক্ষেত্রেও ডিজেলের ব্যবহার বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয়ের কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমিয়েছেন, ভালো কথা। কিন্তু এতে পরিবহন খরচ কমানো না গেলে জনগণ তার সুফল হতে বঞ্চিত হবে।
দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে দ্রব্যমূল্য ও গণপরিবহনের ভাড়া কমানো জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আবার কমলো ডিজেল ও কেরোসিনের দাম, তবে অপরিবর্তিত রয়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ২ টাকা ২৫ পয়সা কমানো হয়েছে। এই দাম এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে ডায়নামিক প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে এপ্রিল মাসের জন্য এই তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৫ পয়সা কমিয়ে ১০৬ টাকা, কেরোসিন ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৫ পয়সা কমিয়ে ১০৬ টাকা সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে অকটেনের দাম লিটারপ্রতি আগের মতোই ১২৬ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা অপরিবর্তিত রেখে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। পুনঃনির্ধারিত এই দাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে সরকার গত ২৯ ফেব্রæয়ারি জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের নির্দেশিকার প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ প্রথম প্রাইসিং ফর্মুলা অনুসারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় বর্তমানে ডিজেল লিটারপ্রতি ৯০.৭৬ রুপি বা ১৩০.৬৯ টাকায় (১ রুপি=১.৪৪ টাকা) এবং পেট্রোল ১০৯.৯৪ রুপি বা ১৫৮.৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশ থেকে বেশি। এর আগে গত ৭ মার্চ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করায় দেশে ব্যবহৃত অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমেছে, যা ৮ মার্চ থেকে কার্যকর হয়। তখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১০৯ টাকা থেকে ৭৫ পয়সা কমে ১০৮ টাকা ২৫ টাকা পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ থেকে ৪ টাকা কমে ১২৬ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১২৫ থেকে ৩ টাকা কমে ১২২ টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেশের ব্যবসায়িদের একটি বড় অজুহাত । তেলের দাম সামান্য বাড়লে পরিবহন সেক্টর ও ব্যবসায়িরা সুযোগ নেয়। কর্তৃপক্ষ তাদের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখা যায়। একই ভাবে তেলের দাম কমার পর কর্তৃপক্ষের নিকট হতে গাড়িভাড়া , পরিবহন খরচ , দ্রব্যমূল্য কমানোর উদোগ আসা করছে দেশবাসী । তেলের মূল্যের সাথে সংযুক্ত সকল প্রকার খরচ সমন্বয় করতে হবে সংশ্লিষ্টদের । তা করা না হলে একটা শ্রেণি বারবার আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতেই থাকবে। ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত হবে দেশের অধিকাংশ জনগণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়া দ্রব্যমূল্য, পরিবহন খরচ এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবে এমন দাবি দেশবাসীর।