‘সংঘাতের সময় আইন সুরক্ষা ও সমাধান দেয়’

4

চবি প্রতিনিধি

‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আইন’ শিরোনামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম আইন সম্মেলন শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং ৩০ জন প্যানেল স্পিকার থাকবেন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ অডিটোরিয়ামে শুরু হয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। চলবে আজ রবিবার পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী।চবি আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. রকিবা নবীর সঞ্চালনায় ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল ফারুকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি বোরহানউদ্দিন। তিনি বলেন, আমি এই আইন বিভাগের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে গর্বিত। কারণ এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত কয়েক বছর খুব ভালো ফলাফল করছে।
বিচারপতি বলেন, আইন হচ্ছে ব্যক্তির কমনসেন্স। ব্যক্তি তার কমনসেন্স ব্যবহার না করলে আইন তার কার্যকারিতা হারাবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন, মানবপাচার, রোহিঙ্গা ক্রাইসিস, সাইবার থ্রেটসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব কেবল বর্তমান প্রজন্মের অধিকারই নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা যা রেখে যাচ্ছি, তা রক্ষা করা। আসুন আমরা এমন আইন প্রণয়ন করি, যা একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মানবিক সংকট এবং প্রতিক্রিয়া আজকের বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ন্যায়বিচারের রক্ষক হিসাবে আমরা নিপীড়িতদের সহায়তায় আমাদের বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করতে পারি না। সংঘাতের সময় আইন সুরক্ষা ও সমাধান প্রদান করে।
তিনি আরো বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে এগিয়ে যেতে আমাদের আইনগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে বর্তমান সমস্যার সমাধান সহজ করা যায়। এছাড়া আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এই সম্মেলন হচ্ছে, বিষয়টি খুবই চমকপ্রদ। আইন শিক্ষা এবং শেখানোর পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। দেশে মেধা যাচাই করা হয় মুখস্তবিদ্যার ভিত্তিতে। কিন্তু সমস্যার সমাধান, ব্যবস্থাপনার জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ, যা অন্যান্য দেশে শেখানো হয়। বর্তমান সময়ের আলোকে আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক ধরনের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। বিভিন্ন ধরনের আইন সেই শৃঙ্খলা মেনে চলতে সাহায্য করে থাকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানবজীবনে বাহ্যিক পরিবর্তন করে না বরং মানব সমাজের সামগ্রিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। সারাবিশ্বে আইনের শাসনে পরিবর্তন এসেছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আইনের শাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সমাজে গণতন্ত্রের চর্চা অনিবার্য।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে এবং সিনিয়র জেলা ও সেশন জজ ড. আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া।
অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমি আশা করি, দেশ ও জাতি এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আজকের এই আইন সম্মেলন ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।