শ্রমিক সংকট লাঘব করছে যান্ত্রিক কৃষি

17

আসহাব আরমান

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে মাঠে সোনালি আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন পরই পুরোদমে চলবে আমন ধান কাটা। ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ততা বাড়বে কৃষকদের। এ সময় কৃষকদের চিন্তা বাড়ায় শ্রমিক সংকট। দুই বেলা ভাত ও টাকার বিনিময়েও কৃষিকাজের শ্রমিক পাওয়া যায় না।
তবে কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করছে তারা। কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কম খরচে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।সাধারণ এলাকার চেয়ে উপক‚লীয় এলাকার কৃষকদের ভর্তুকি বেশি দেয়া হয়। উপকূলীয় এলাকায় প্রতিটি যন্ত্রের মোট মূল্যের ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়া হয়। যা অন্যান্য এলাকায় ৫০ শতাংশ। সরকার থেকে কৃষি যন্ত্রপাতির বরাদ্দ থাকে পর্যাপ্ত। দাম বেশি হওয়ায় ভর্তুকিতে বিতরণ করা হয়। এতে কৃষকরা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ দাম পরিশোধ করে যন্ত্রগুলো নিতে পারেন। কৃষির যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমের কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরের চট্টগ্রাম জেলায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় মোট ১৪২টি কৃষি যন্ত্র ভর্তুকিতে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কম্বাইন হার্ভেস্টার ৪৪টি, রিপার ১৪টি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ৩টি, পাওয়ার থ্রেসার ৭৪টি, মেইজ শেলার ২টি, উইন্ডার ১টি ও পাওয়ার স্প্রেয়ার ৪টি।
এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃষকরা কৃষি যন্ত্র কিনেছেন। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় এ পর্যন্ত কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৫৯টি। বর্তমানে সচল কৃষি যন্ত্রপাতি রয়েছে ১৪ হাজার ১২টি। এর মধ্যে কম্বাইন হার্ভেস্টার ৮২টি, মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার ২টি, রিপার ২৩৮টি,পাওয়ার টিলার ৫ হাজার ৩৩৮টি, ট্রাক্টর ৬৯টি, রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার ১৬টি, সিডার ১টি, বেডপ্লান্টার ১টি, পাওয়ার থ্রেসার ৯৭৩টি, প্যাডেল থ্রেসার ৬ হাজার ২৩৬টি, পাওয়ার স্প্রেয়ার ৪টি, কর্নশেলার ৪২টি ও উইনোয়ার ১১টি।
রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলের কৃষক হাজী ফরিদ আহমদ পূর্বদেশকে বলেন, আমি এ বছর ৩০ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ফলনও মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। বতর্মানে শ্রমিকরা অনেক মজুরি চায়। আবার অনেক সময় অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। ৪০ শতক জমির ধান কাটতে ১২-১৩ হাজারের বেশি শ্রমিক খরচ লাগে। একদিন ধান কাটার জন্য এক হাজার টাকার দিতে হয়। পাশাপাশি দুইবেলা ভাত খাওয়াতে হয়। তবুও গ্রামে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাইরে থেকে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক আসলেও রাজনেতিক অস্থিরতায় এবার তারা আসেনি। তবে মেশিন দিয়ে ধান কাটতে খরচ কম লাগে। তবে এসব মেশিনের দাম অনেক বেশি তাই চাইলেও কৃষকরা মেশিন কিনতে পারেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক পূর্বদেশকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যান্ত্রিক কৃষি গতি পেয়েছে। ফসল আবাদ থেকে ঘরে তোলা সব কাজই যন্ত্রের মাধ্যে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমানে যান্ত্রিক কৃষির আওতা বাড়ছে। সরকারও ভর্তুকির মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করছেন। শ্রমিকের চেয়ে যন্ত্র ব্যবহারের খরচও তুলনামূলকভাবে কম। কৃষকরা এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অভ্যস্ত হলে শ্রমিক সংকট কেটে যাবে।