শেষ মুহূর্তে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা

20

ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে শেষ সময়ে এসে জমেছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাবিক্রি। প্রিয়জনদের ঈদ আনন্দ পরিপ‚র্ণ করতে সাধ্যের মধ্যেই কেনাকাটা করতে এ দোকান থেকে ওই দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা। ক্রেতাদের অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মাঝেও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করার তৎপরতা চোখে পড়েছে। প্রত্যেক মার্কেটে মার্কেটে সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেট সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের প্রচুর ভিড় নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের ১১০টি মার্কেটে। এছাড়াও বিপনী বিতান, টেরিবাজার, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্স, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সানমার ওশান সিটি, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটসহ শপিং-মলগুলোতেও ভিড় করতে দেখা গেছে ঈদমুখী মানুষদের। আর এইসব মার্কেট সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যানজটও তৈরি হচ্ছে বেশ।
মহামারির মধ্যে এবারও ফুটপাতসহ নগরীর মার্কেটগুলোতে রয়েছে বাহারি পোশাকের সমাহার। তবে অনেক দোকানেই তুলনাম‚লক নতুন কালেকশন কম। দোকানগুলোতে পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট, সালোয়ার কামিজ, ওড়না, শাড়ির বাহারি ডিজাইন নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। তবে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়য়ের মাঝে।
ক্রেতারা বলছেন, লকডাউনের অজুহাতে দোকানিরা পণ্যের দাম বেশি হাঁকছেন। বেশি নিচ্ছেনও। মার্কেটগুলোতে নিম্নবিত্তদের জন্য যেন পোশাকই নেই। অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রায় প্রতিটি পণ্যে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়া হচ্ছে। অনেকেই দরদামে সন্তুষ্ট না হলে ফুটপাতের দোকানগুলোতে যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও নেই স্বস্তির বার্তা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার মধ্যে সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতাই পণ্যের দাম কম বলছেন। অনেকে কেনা দামও বলছেন না। অথচ আমাদের দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনের পাশাপাশি অন্য আরো খরচ আছে। তবে আশার কথা হলো গত কয়েক দিন থেকে আমাদের বেচাকেনা বেড়েছে। ঈদের আগ পর্যন্ত এভাবে বিক্রি হলে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো।
আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন জানান, ভিড় বাড়তে থাকায় সামাজিক দ‚রত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। ম‚ল ফটকের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে।
আগ্রাবাদের মার্কেট পরিদর্শনে আসা ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি, তার পাশাপাশি মাইকিংও করা হচ্ছে। যাদের মুখে মাস্ক আছে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি আর যাদের কাছে মাস্ক নেই, তাদেরকে আমরা মাস্ক দিচ্ছি।
একই সাথে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারেও চলছে জমজমাট বেচাকেনা। দুপুরের পর থেকে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদে কালেকশন কম বলে জানিয়েছে কিছু ক্রেতারা।
কেনাকাটা করতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রকিবা সোলতানা রুফু বলেন, ঈদ উপলক্ষে অন্যান্যবারের মত নতুন কোনো কালেকশন নেই। এমনিতে ঘুরে দেখছি নতুন কিছু আছে কি না। তারপরও যা আছে, সেগুলোর দাম একটু বেশি বলছেন বিক্রেতারা।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের আল মদিনা ক্লথ স্টোরের কর্মচারী সাখাওয়াত সুমন জানান, রমজানের পূর্বেই ভারত থেকে নতুন কিছু কালেকশন আনা হয়েছে। সেগুলো ঈদ উপলক্ষে নতুন। তবে এবারে বেচাকেনা খুবই মন্দা যাচ্ছে। যে পরিমাণ কাপড় রয়েছে তা অনেকটা নামমাত্র মূল্যেই বিক্রি করে দিচ্ছি আমরা।
তামাকুমুÐি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমদ কবির দুলাল জানান, আমরা সরকারি আদেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সকল ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা আমাদের কথা রেখে সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আগের মতোই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে আমরা সক্রিয় আছি। নিয়মিত মাইকিং করে যাচ্ছি। কোনো অনিয়ম পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মো. ছালামত আলী পূর্বদেশকে জানান, প্রত্যেক মার্কেটে এখন ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসাতে সবাই কেনাকাটার প্রতি আগ্রহ করছেন। আর আমরা দেখছি সকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কেনাকাটা করছেন। তিনি আরও জানান, একদিন পরই ঈদ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া আছে।