শেষ পর্যন্ত মারা গেল সাফারি পার্কের অসুস্থ ‘নদী’

7

চকরিয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সিংহী ‘নদী’ মারা গেছে। দীর্ঘ তিনমাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শুক্রবার সকাল ৬ টার দিকে পার্কের সিংহের বেষ্টনীতে মারা যায় ওই সিংহী। এর আগে গত ১৯ ফেব্রæয়ারি স¤্রাট ও নদী সঙ্গমিলনের সময় মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে গলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় সিংহী নদী। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হীরার ঘরে জন্ম নেয় সিংহী নদী। জন্মের পর দীর্ঘ সাড়ে ১১ বছর খুব ভালোভাবেই দিন পার করছিল ওই সিংহী। এ সময়ের মধ্যে নদী ও সম্রাটের (সিংহ) ঘরে বাচ্চা জন্ম নেয়। গত ২ ফেব্রæয়ারি তাদের নির্ধারিত বেষ্টনিতে সম্রাট ও নদী খেলা করছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়। এতে সম্রাট ও নদীর শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ওই সময় সাফারি পার্কে ভেটেরিনারি চিকিৎসক না থাকায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দীর চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠে সম্রাট ও নদী। পরে তাদেরকে আবারো সিংহের বেষ্টনিতে রাখা হয়।
এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি সম্রাট ও নদী মিলনের সময় আবারও মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে উভয়ই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ সময় সম্রাটের নখের আচড়ে গলায় জখম হয় নদীর। পরে সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের পরামর্শে ভার্চুয়ালি চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসায় সম্রাট সুস্থ হয়ে উঠলেও গলার ক্ষতস্থান থেকে পানি ঝরতে থাকে নদীর।
পরবর্তীতে নদীর গলার পানি ঝরা বন্ধ না হওয়ায় পার্কের বর্তমান ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইন ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেন। তারপরও নদীর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী এবং পার্কের চিকিৎসকসহ ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপরও নদীর কোনো অগ্রগতি হয়নি। একপর্যায়ে খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় নদী।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী বলেন, সিংহীর গলায় যে আঘাত ছিল তা শুকিয়ে গিয়েছিল। মূলত তার বয়স শেষের দিকে। একটা সিংহী বাঁচে ১২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। এই সিংহী এখন বার্ধক্য অবস্থায় পৌঁছে গেছে। যার কারণে তার খাবার রুচি চলে গেছে। ফলে কমে গেছে শরীরের অ্যান্টিবডি। সিংহী নদী যখন খাবার বন্ধ করে দেয়, তখন তাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সিংহী নদীকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলনা।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সবধরনের চিকিৎসা নদী’কে দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১২ এপ্রিল নদীর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তারা রিপোর্ট দেখে নদী ভাইরাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান। ময়না তদন্ত শেষে সিংহী নদী’কে পার্কের এক জায়গায় পুঁতে ফেলা হয়েছে।