শেখ হাসিনা : পুনর্জাগরণের প্রতীক

12

জামাল উদ্দিন

এই ভাটি বাংলায় জন্ম নেওয়া এমন এক মহীয়সী তিনি, যার সমস্ত সত্তা ও অস্তিত্ব জুড়ে রয়েছে মঙ্গল-ব্রত; মাটি ও মানুসের জন্য অপার মমতা-ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। বাংলা ও বাঙালির পরম সৌভাগ্য তাঁর মতো মহাপ্রাণ আমাদের ত্যাগাকাশে উদিত হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু-তনয়্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ তাঁর ৭৮তম জন্মদিন। আমরা সমস্ত কায় মন্যে বাক্যে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাঁর নীরোগ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।
শেখ হাসিনা এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি সর্বাত্মকভাবে তাঁর পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সার্থক উত্তরাধিকারী। জাতির জনক দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভ‚খÐ, লাল সবুজের পতাকা, স্বাধীনতা। আর তাঁর কন্যা আমাদের দিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি, সমৃদ্ধিÑ যা প্রকারান্তরে বঙ্গবন্ধুরই মানস-ভাবনা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সারের ৯ মে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমি কী চাই? আমি চাই বাংলার মানুষ পেট ভরে খাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার বেকার কাজ পাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ হেসে খেলে বেড়াক। আমি কী চাই? আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণ ভরে হাসুক।’
বঙ্গবন্ধুর সেই আরাধ্য স্বপ্ন বাস্তবায়ন করলেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা। আজ বাংাদেশ বিশ্বের বুকে এক ব্যতিক্রমী বিস্ময়। উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে ক্রমশ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের সমস্ত সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বগামী। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ-এর তকমা ধারণ করেছে। আশা করা যায় শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ভিশন-৪১’-এর আলোকে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।
০২.
মধুমতী নদীর তীরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিলো টুঙ্গি পাড়ার এক পাঠশালায়।
তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকার আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে বদরুনেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন।
১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শেখ হাসিনা উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তিনি পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
১৯৭৫ সালে সভ্যতার ইতিহাসে বর্বরতম হত্যাকাÐের সময় শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহেনা জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যান। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সারের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার অনমনীয় সংগ্রাম শুরু করেন। তাঁর নির্ভীক, তেজস্বী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আজ উন্নয়রে রোল মডেল। অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আর এই অভ‚তপূর্ব সাফল্যের পেছনের মূল অনুঘটক (ঈধঃধষরংঃ) জননেত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের সকল সূচকেই আজ বাংলাদেশের শনৈঃ শনৈঃ অগ্রগতি। কিন্তু এই অর্জনের মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না। বাধার পাহাড় কেটে কেটে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমাদের দেশকে এই মর্যাদাবান উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট বিজয়ের পর ২০০৯ সালের দ্বিতীয়বার এবং ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি ৪র্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
নারী হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার অনন্য রেকর্ড অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড ছিল। শেখ হাসিনা চার মেয়াদে এরই মধ্যে ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার-মুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বের আশ্চর্য যাদুর কাঠির স্পর্শে বাংলাদেশের আমূল পরির্বতন ঘটিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে আজ ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া। প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়নের যজ্ঞ। আমাদের জন্যে নিরঙ্কুশ গর্বের বিষয় হলো এইÑ সৎ ও কর্মঠের তালিকায় শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা তিনে স্থান করে নিয়েছেন।
০৩.
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’-এর অভিযাত্রা পরের দুই দশকে মন্থর হতে হতে প্রায় থেমে গিয়েছিলো। ১৯৯৬ সালে দেশ আবার সঠিক পথে ফেরে তাঁরই সুযোগ্য কন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। আজ আমরা উন্নয়নের রোডম্যাপ ধরে সামষ্টিক অর্থনীতি এবং সামাজিক সকল সূচকে অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি।
১৯৭৫-এর পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি সাত গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছিলো ১ লক্ষ ৬ হাজার ৮শত ৮৮ টাকায়।
গত এক দশকে জিডিপি গড়ে ৭ শতাংশ বেড়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের গতিশীল এই অর্থনীতি দ্রæত সুবিবেচনাপ্রসূত নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতার ফসল হলো ‘এমারজিং-টাইগার ইকোনমি’র বাংলাদেশ। এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে জিডিপিতে রয়েছে কৃষির অসামান্য অবদান। শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করে। কেবল কৃষি সেক্টর নয়, ক্রমান্বয়ে শিল্প খাতেও রয়েছে অসামন্য অবদান।
আর আধুনিক অর্থনীতির এটাই টেকসই (ঝঁংঃধরধনষব) পথ। যেহেতু শিল্প খাতের প্রসারের মধ্যেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি-উপরন্তু কর্মদক্ষ নারী কর্মীর ব্যাপক কর্মসংস্থানÑ রপ্তানি নির্ভর শিল্পায়নের প্রসার তথা দারিদ্র্য বিমোচন; সর্বোপরি ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি তথা অর্থনীতির সচল প্রবাহ।
শেখ হাসিনা কৃষি খাতে নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। কৃষিতে এনেছেন আধুনিকতা। স্বাধীনতার পর পর যেখানে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ছিলো ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন, এখন সেখানে খাদ্য উৎপাদন এসে পৌঁছেছে ৩৭ মিলিয়ন টনে। খাদ্য উৎপাদন সূচকের বিচারে বাংলাদেশ পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারত, চীন ও ভিয়েতনামকে। এখন আমরা উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশেল খাদ্য উৎপাদন সূচকের মান ১৪৫। ভারতের ১৪৪, চীনের ১৩৯ এবং ভিয়েতনামের ১৩৬।
২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউএন সাসটেইনবল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি ম্যাকা বলেছেন, ‘পৃথিবীর দেশুগুলোর টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করলেÑ যা প্রতিবছর জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক করে থাকে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে বিশ্বে প্রথম হয়েছে।’ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও কৃতিত্বের ফসল এই গৌরব।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইক্লু¬সিভ ইকোনমিক ইন্ডেক্স অনুযায়ী অর্থনেতিক দিক থেকে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। যেখানে দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৭০০ থেকে ৮০০ ডলার, শেখ হাসিনা সরকারের শাসন আমলে মাথাপিছু আয় বেড়ে ১০০০ থেকে প্রায় ৩০০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ১৯৭২ সালে গড় আয় ছিলো ৪৭ বছর, এখন সেটি ৭৩ বছরÑ যা বিশ্বের গড় আয়ু থেকে ১০ বছর বেশি।
০৪.
বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে শেখ হাসিনাকে অনেক সম্মানসূচক ডিগ্রি ও পুরষ্কার প্রদান করা হলে। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রায় ৪০টি পুরস্কার, পদক, ডক্টরেট ও সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। এর মধ্যে জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি পুরস্কারও রয়েছে। তাঁকে পুরস্কৃত করেছেÑ যুক্তরাষ্ট্রের বোষ্টন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বায়ি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়ায়েদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাপরটি বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী ইত্যাদি। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পেয়েছেন সম্মানসূচক ডিগ্রি।
শেখ হাসিনা মানে বিশ্ব শান্তির কপোত। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাঁকে মর্যাদাবান হুপে বেয়ানি শান্তি পুরস্কার প্রদান করে। ২০০০ সালে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল এস বাক পুরস্কার। জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানসূচক ‘সেরেস’ পুরস্কার প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তি সংঘ ১৯৯৮ সালে মাদার তেরেসা পদক দেয়। এছাড়া পেয়েছেনÑ আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশনের চধঁষ ঐধৎরং ফেলোশিপ। পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস কর্তৃক ১৯৯৯ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু স্মৃতি পদক। আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক ১৯৯৬-৯৭ সালে গবফধষ ড়ভ ফরংঃরহপঃরড়হ পদ এবং ১৯৯৬-৯৭ সালে ঐবধফ ড়ভ ংঃধঃব পদক। শেখ হাসিনার কীর্তির মুকুটে যুক্ত হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, বৃটেনের গেøাবাল ড্রাইভার সিটি পুরস্কার (২বার), ইউনেস্কো কর্তৃক শান্তির বৃক্ষ ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গেøাবাল ফোরামের নারীর ক্ষমতায়নের জন্য রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার ইতাদি। সর্বশেষ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন ও এজেন্ট অব চেঞ্জও অ্যাওয়ার্ডে ভ‚ষিত হয়েছে তিনি।
০৫.
মিয়ানমারের জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ অভিধায় ভ‚ষিত হয়েছেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে করোনাকালেও দেশের প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরে। এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি খাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন, সমুদ্রসীমা বিজয়, সীমান্ত করিডোর মীমাংসা, কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল প্রকল্প, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এশিয়ান হাইওয়ে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি উচ্চাকাক্সক্ষী প্রকল্প অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চেহেরা আমূল পাল্টে দেবে।
জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে তিনি ‘চ্যাম্পিয়ন অব আর্ক’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন। শেখ হাসিনা মানেই সুশাসন, উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন সামাজিক ন্যায়বিচার। শেখ হাসিনাকে অভিহিত করা যায়Ñ ‘আলোর অভিযাত্রী’ অভিধায়। তিনিই তো বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে হাজার বছরের অন্ধকার ও অচলায়তন দূর করেছেন। তারই বদৌলতে সমৃদ্ধি। তাঁর স্বপ্নের রূপকল্প-৪১-এর মাধ্যমে নিশ্চয়ই তিনি আমাদের উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে পৌঁছে দেবেন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট