শূন্য থেকে শীর্ষে আবুল খায়ের গ্রুপ

74

পূর্বদেশ ডেস্ক

১৯৪৬ সালে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে এসেছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবুল খায়ের। চাকরি নেন পাহাড়তলী বাজারের একটি মুদি দোকানে। পরে নিজেই সেখানে দোকান দেন। একপর্যায়ে ওই এলাকায় গড়ে তোলেন বিড়ির কারখানা। ধীরে ধীরে সেই কারখানা সম্প্রসারণ করেন ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লায়। এরপর তিনি ‘শিশমহল’ লুঙ্গি তৈরির কারখানা করেন। তবে ১৯৭৩ সালে সুতার অভাবে লুঙ্গির কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৬৪ সালে সীতাকুন্ডের মাদামবিবির হাট এলাকায় জমি কিনে গড়ে তোলেন ইটভাটা। দুই-তিন বছর পর সেই ইটভাটা বন্ধ করে খুলশীতে মুরগি ফার্মের কাছ থেকে ৪৫ একর জমি কিনে ইটভাটা দেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত সেটি চালু ছিল। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সিনেমা হলেও বিনিয়োগ করেন। ‘রূপ ভারতী’ নামের সেই সিনেমা হল ২০০৩ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। শুরু করেন পণ্য বাণিজ্যও। ১৯৬৫ সালে খাতুনগঞ্জের অদূরে জেল রোডে প্রতিষ্ঠান খুলে পণ্য বাণিজ্যের ব্যবসা শুরু করেন আবুল খায়ের। করাচি থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করতে হতো সে সময়। ধীরে ধীরে আবুল খায়ের ইস্পাতের পাত, সিমেন্ট, নারকেল তেল, গুঁড়া দুধ, সিগারেটের কাগজ আমদানির ব্যবসায় যুক্ত হন। এখনো গ্রুপের আমদানি বাণিজ্য পরিচালিত হয় পুরোনো এই ভবন থেকে। কিন্তু ১৯৭৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৪৯ বছর বয়সে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নাটেশ্বর গ্রামের সেরাজুল হকের তিন সন্তানের মধ্যে মেজ আবুল খায়ের মৃত্যুবরণ করেন।
আবুল খায়েরের মৃত্যুর পর স্ত্রী মাছুদা বেগম প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক গাজীউল হক ও আবুল খায়েরের ছোট ভাই আবুল হোসেন ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ান। এরপর তাঁর সন্তানেরা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেন। বড় ছেলে আবুল কাশেম এখন গ্রুপ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় ছেলে আবুল হাশেম আছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে। তৃতীয় ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চতুর্থ ছেলে শাহ শফিকুল ইসলাম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রুপের হাল ধরা চার সন্তানই পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ২০২০ সালে একটি প্রতিবেদনে আয়ের দিক থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এমন ২৩টি কোম্পানির তালিকায় এক নম্বরে রেখেছে আবুল খায়ের গ্রুপকে। ওই প্রতিবেদনে তাদের বার্ষিক আয় দেখানো হয় ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা।
আবুল খায়ের গ্রুপ বর্তমানে শিল্পের অনেক খাতেই নেতৃত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সিমেন্ট কারখানা শাহ সিমেন্ট আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন। ঢেউটিনের বাজারেও শীর্ষে আছে গরু মার্কা ঢেউটিন ব্র্যান্ড নিয়ে। আবার রডের বাজারে একেএস ব্র্যান্ডের অবস্থান দ্বিতীয়। দ্রুততম সময়ে স্যানিটারি পণ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে তাদের ব্র্যান্ড স্টেলা। মার্কস ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধসহ অনেক খাদ্যপণ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে গ্রুপটি। তাদের চায়ের ব্র্যান্ড সিলন বর্তমানে বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে।
আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার মানুষের। গত অর্থবছরে গ্রুপটি সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ৬ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলে গত অর্থবছরের সরকারের যত রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার আড়াই শতাংশ দিয়েছে গ্রুপটি। শুধু কর্মসংস্থানই নয়, করোনাকালে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে গ্রুপটি।
দেশে যখন অক্সিজেনের সংকট, তখন দ্রুত গ্রুপটি সারা দেশে ১৭টি অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন করে করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত অক্সিজেন বিনামূল্যে বিতরণ করেছে।