শুষ্ক মৌসুমে অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

6

দেশে এখন শুষ্ক মৌসুম চলছে। শীতের শুরুতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণ নাশের ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক। যানমালের নিরাপত্তা বিধানে আগামী সতর্কতা খুবই জরুরি। অগ্নি-দুর্ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণের যত সময় প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। তাই অগ্নি-দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে জনগণ সচেতনতার সাথে অগ্নি-দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকলে অগ্নি দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি হতে মুক্ত থাকা সম্ভব। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি বেশ ক’টি অগ্নি-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে বলে প্রতিবেদন হতে জানা যায়।
অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট, গ্যাস লাইন কিংবা গ্যাসের চুলা, ব্যক্তিগত অসতর্কতা ইত্যাদি কারণে অগ্নিকাÐের দুর্ঘটনা ঘটছে। যেহেতু দেশে বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম চলছে, সেহেতু দেশের জনগণকে এ শুষ্ক মৌসুমে খুবই সতর্কতার সাথে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য দুর্ঘটনার উৎসগুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কলকার খানা, মার্কেট, দোকান-পাট, ঘর-বাড়ি এবং বস্তি এলাকায় মানুষ বেশি পরিমাণে অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে থাকে। দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত আছে কি না, থাকলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে কি না সতর্কতার সাথে সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখতে হবে। কোথাও ঝুঁকি থাকলে তা দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। অগ্নি-দুর্ঘটনা যান-মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে থাকে। নিকট অতীতে আমরা চট্টগ্রাম বিএম কন্টেইনার ডিপুর অগ্নিকাণ্ড দেখেছি। যাতে ব্যাপক যান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উক্ত দুর্ঘটনা হতে চট্টগ্রাম সহ সারাদেশের মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে যে, কিভাবে অগ্নি দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, যে সকল শিল্পকারখানায় বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে সেগুলো এই শুষ্ক মৌসুমে স্বাভাবিক আছে কিনা বারবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা জরুরি। বাসাবাড়ি এবং সেসকল স্থানে বৈদ্যুতিক কিংবা গ্যাসের সঠিক আছে কিনা তা নিয়মিত তদারকিতে রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। জ্বালানি কাঠের চুলা যারা ব্যবহার করেন তাদের রান্না-বান্না শেষ হবার পর চুলার আগুন নিভিয়ে দেয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আগুন নরক বা দোজখের স্থায়ী বাসিন্দা। তার সাথে মানব সমাজের অসতর্ক অবস্থান কখনো কাম্য নয়। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বস্তিতে ফায়ার সার্ভিস স্বাচ্ছন্দে প্রবেশ করতে পারে না। তাই আগেভাগে আবাসিক এলাকার রাস্তা স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলো স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, কোন কারণে অগ্নি-দুর্ঘটনার সূত্রপাত হলে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারবে। বিশেষ করে বস্তি এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে অগ্নির ব্যবহারে সতর্কভাবে কাজ করতে হবে।
চুলা, বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাস লাইন ও গ্যাসের চুলা স্বাভাবিক আছে কি না অগ্নি-দুর্ঘটনা ঘটার পূবেই পরীক্ষার আওতায় রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায় শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই চট্টগ্রামে চারটি অগ্নি-দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হলে সেসব অগ্নি-দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তাই আমরা যে যেখানে আছি নিজস্ব দায়বদ্ধতার সাথে যেকোন স্থানে অগ্নি-দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্ঘটনার পূর্বে সতর্ক হলে অনেক দুর্ঘটনা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সুতরাং জনসচেতনতাই অগ্নি দুর্ঘটনার রোধে কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে এমন ধারণা বিশেষজ্ঞদের।