শিশু-কিশোরদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে

15

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুব আলম

দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে এক বছরের বেশী সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়। ১৩ জুন বিদ্যালয় খোলে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ ধরা পড়ায় পিছিয়ে গেলো। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অলস সময়ে শিক্ষার্থীরা ভোগছে হতাশা ও বিষন্নতায়। পড়ালেখার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকে জড়িয়ে পড়েছে নানা অপরাধে। অনেকে মাদক,অনলাইন গেম ও নিষিদ্ধ পূর্ণ আসক্ত হয়ে নানা ধরনের অনৈতিক কাজেও জড়িয়ে পড়েছে। চোখের সামনে সন্তানের এমন অধঃপতন দেখে অভিভাবকেরা ভোগছেন দুশ্চিন্তায়। প্রযুক্তির অপব্যবহারে গ্রাম কিংবা শহর সবখানে একই অবস্থা । এসব শিশু- কিশোরেরা দিনভর গলির মুখের টং দোকানে বসে আড্ডা মারে। মোবাইল ও ল্যাপটপে ফ্রি ফায়ার ও পাপজির মত ভয়ংকর গেম খেলা কিংবা পর্ণে ডুবে থাকে। আড্ডায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রাণঘাতি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বন্ধুদের সাথে মিলে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে খুন,ধর্ষণ,চুরি সহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে ৷ তাদের আচরণ, কথা, চালচলন চরম বেপরোয়া ও উচ্ছৃংখল। এসব শিশু-কিশোরদের বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ অভিভাবক ও এলাকার লোকজন। এদের দেখলে সহজে বুঝা যায় নিজেদের অন্ধকার জগতে মগ্ন। বাস্তবতা ও আশপাশের পরিবেশ থেকে অনেক দূরে। মাদকাসক্ত শিশু-কিশোর একটি পরিবারকে তিলে তিলে নষ্ট করে দিচ্ছে। ঘুম কেড়ে নিয়েছে অভিভাবক ও এলাকাবাসির। চরম আকার ধারণ করেছে এলাকাভিত্তিক কিশোরগ্যাং কালচার৷ কিশোর গ্যাংয়ের বলি হয়ে প্রাণ দিয়েছে অনেক শিশু- কিশোর ৷ এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য সহ নানা কারণে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। কতিপয় বড়ভাইয়েরা এই শিশু- কিশোরদের অবুঝ মনের উগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করছে। বড় ভাইয়ের মদদে বেপরোয়া এসব শিশু- কিশোরদের কাছে অসহায় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে কবজির জোর দেখিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে কথিত বড়ভাই । গেমে শত্রুকে গুলি করে মারতে গিয়ে বাস্তবে চরম নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে এসব শিশু- কিশোরেরা ৷ প্রকাশ্যে নৃসংশভাবে কুপিয়ে বা পিটিয়ে মারছে মানুষ। অনেকে অতিরিক্ত মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহারে চোখ ও মানসিক সমস্যায় ভোগছে। শারীরিক ও মানসিক রোগ নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে লাইন ধরেছে। কচি বয়সে মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভোগা এসব শিশু- কিশোর পরিবার ও দেশের সম্পদে পরিণত হওয়ার বদলে বোঝায় পরিণত হচ্ছে। একবছর আগে যে সন্তান ছিল নম্র ও ভদ্র সময়ের ব্যবধানে সে মাদকাসক্ত ও বখাটে হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। ঝুঁকি থাকলেও বিদ্যালয় খোলে দেওয়ার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। অভিবাবক ও শিক্ষকদের দাবি বিদ্যালয় খোলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরানোর। কারণ করোনা সংক্রমণ সহজে বিদেয় নিবেনা। তাই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খোলে দিয়ে এসব শিশু- কিশোরদের বিদ্যালয়মুখী করার কথা চিন্তা করতে হবে। প্রয়োজনে শিফটিং করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খোলে দেওয়া যেতে পারে। শিশু- কিশোরদের মানসিকতা থেকে আবর্জনা সরিয়ে শিক্ষার আলো বসিয়ে দিতে হবে। আগামী প্রজম্মকে নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করার কৌশল ও নিয়ম নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে।আমাদের ভাবতে হবে দেশের আগামী দিনের কথা৷ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে বিদ্যালয়। তদের মানসিকতায় আবারো ফিরে আসবে শিক্ষা ও মেধা চর্চা । নতুন করে শাণিত হবে মেধা ও আগামী প্রজন্ম।

লেখক : সাংবাদিক