শিশুর জন্য চাই নিরাপদ বাসযোগ্য পৃথিবী

8

 

যেদিন (২২ ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার) আমার ছেলে কাজী আবদুল্লাহ নাবহান জন্মেছিল সেদিন ভেবেছি কীভাবে তাকে একটি নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারবো। মেয়েদের জন্মের সময়ও ভেবেছি। আমার মতো প্রত্যেক বাবা-মাই হয়তো তাদের সন্তান জন্মের সময় ভেবেছেন কীভাবে তাকে একটি বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী দেবেন।
অথচ একটি শিশু জন্মের সময় আমরা কী সেই বাসযোগ্য ও নিরাপদ পৃথিবীর নিশ্চয়তা দিতে পারছি? খবরের কাগজে প্রায় সময় শিশুহত্যা ও নির্যাতনের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। পৃথিবীর নানা জায়গায়ও শিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হয়। মাতা-পিতা, অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটান। নিষ্পাপ এসব শিশুর উপর নির্যাতন ও হত্যায় আঁৎকে উঠেন সচেতন সব মানুষ। বিভিন্নভাবে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয় । তাতে জড়িত থাকে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের ভয়াবহতা। মানুষ কীভাবে যে এত নির্দয় ও পাষÐ হতে পারে তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। এসব নির্যাতনের পাশাপাশি তারা বঞ্চিত হয় শিক্ষাসহ সব মৌলিক অধিকার থেকে। ঠিকমত খাবার, পোশাকও পায়না। অভিভাবকহীন শিশুরা বেড়ে উঠে বিভিন্ন ঘাতপ্রতিঘাতে। অনেকে দুষ্টলোকের হাতে পড়ে বড় হয়ে বিপথগামী হয়। সংঘটিত করে নানা অপরাধ। সঙ্গদোষে নষ্ট হয় বহু ধনীর দুলাল!
বিশ্বসংস্থাসহ দেশ-বিদেশের নানা সংগঠন, সরকার ও ব্যক্তি শিশুদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ আবাস গড়তে চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা। অথচ এসব কিছুর মাঝেও শিশুদের উপর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। যে অবস্থা চলছে তাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে তা বলাই মুশকিল। যেখানে মা-বাবার কোলও শিশুর জন্য নিরাপদ হচ্ছেনা! মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে শিশুদের উপর কেমন করে এত বর্বর নির্যাতন চালাতে পারে?
প্রতিটি শিশুর নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এই দায়িত্ব এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। নিজের পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত শিশুকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে মা, বাবা, অভিভাবক, রাষ্ট্রসহ সর্বোপরি সমাজের সকল মানুষকে। সব ধরনের ভীতিকর পরিবেশ থেকে শিশুকে মুক্ত রাখতে হবে। শিশুর মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য যা যা করণীয় তার সবটুকু করতে হবে। যে শিশুরা আগামীদিনের ভবিষ্যৎ, তাদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবার কোন সুযোগ নেই। দিতে হবে তাকে সব মৌলিক অধিকার। শিশু হত্যা ও নির্যাতনের সাথে জড়িত অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কেউ শিশুদের উপর কোন ধরনের অত্যাচার করতে না পারে সে ধরনের আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক : শিক্ষক, প্রাবন্ধিক