শিশুদের আগ্রহ ভূতের গল্প ও ছড়ার বইয়ে

3

আসহাব আরমান

শিশুরা বরাবরের মতই কল্পনা করতে ভালোবাসে। তাদের বই পড়ার অভ্যাসও শুরু হয় নানা রকম রূপকথা ও ভূতের গল্পের মধ্যদিয়ে। তাই বইমেলায় শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ভূতের গল্পের বই। এছাড়া ছড়া ও কবিতা ও ধাঁধার বইয়েও শিশুদের আগ্রহ দেখা গেছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত অমর একুশে বইমেলায় ঘুরে এসব তথ্য চোখে পড়ে। তবে এখনও বই বিক্রি জমে উঠেনি।
গতকাল ছিল বইমেলার চতুর্থদিন। প্রতিদিনের ন্যায় বিকেল হতেই পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে পছন্দের বই দেখছেন তারা। গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও ইতিহাসসহ নানা ধরনের বই কিনছেন দর্শনার্থীরা।
রংপেন্সিল স্টলের সামনে বই দেখার সময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিম পূর্বদেশকে জানায়, ‘আমার ভূতের বই পছন্দ। ভূতের গল্প পড়ার সময় কল্পনায় একটা ভূতের ছবি তৈরি হয়ে যায়। এটা আমাকে আনন্দ দেয়। তাই আজকে মেলায় এসেই ভূতের গল্পের বই কিনেছি।’
আরেক ক্ষুদে শিক্ষার্থী ইসরাত জানায়, ‘আমার ধাঁধার বই পছন্দ। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের ধাঁধা জিজ্ঞেস করবো। তাই আমি ধাঁধার বই কিনেছি।’
শিশুতোষ বইয়ের বিক্রি তুলনামূলক ভালো বলে জানিয়েছেন শিশুপ্রকাশ প্রকাশনীর আরিফ রায়হান। তিনি পূর্বদেশকে বলেন, ‘মানসিক বিকাশের জন্য বইয়ের সাথে শিশুদের পরিচিতি বাড়ানো উচিত। এতে করে শিশুর মানসিক বিকাশ সমৃদ্ধ হয়। এবারের মেলায় আমাদের স্টলে শিশুতোষ বই বিক্রি মোটামুটি। মেলার শুরুর দিকে পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে সময় বাড়লে পাঠক-দর্শনাথীর উপস্থিতিও বাড়বে, বিক্রিও বাড়বে।’
রংপেন্সিল প্রকাশনীর স্টল প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন পূর্বদেশকে বলেন, ‘ছোটরা ভ‚তের বইয়ের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রিও হচ্ছে ভ‚তের বই। ভ‚ত, ডাইনোসর, পরির বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ধাঁধার বই। সাধারণ জ্ঞান, প্রাণিজগত, মহাকাশের বইও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোটদের ছড়া ও কবিতার বইও বিক্রি হচ্ছে। মেলার স্থান পরিবর্তনও পাঠক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতির উপর প্রভাব ফেলেছে। তবে আশা করছি ধীরে ধীরে পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে।’
প্রজ্ঞালোক প্রকাশনীর স্টল প্রতিনিধি প্রশান্ত বড়ুয়া বলেন, ‘সেসব স্টলে নিজস্ব লেখকের নতুন বই আছে সেসব স্টলে বিক্রি তুলনামূলক বেশি। আমাদের স্টলে এবারে বইমেলায় ৬টি নতুন বই আছে। সবগুলো বইয়ের লেখক চট্টগ্রামের। ফলে পাঠকরা নির্দিষ্ট লেখকের বই নিতে স্টলে আসেন। তবে মেলায় আসা অধিকাংশ মানুষই বই কিনেন না। আড্ডা ও ঘুরাঘুরি করে চলে যান। গত দুইদিন মোটামুটি বিক্রি ভালো ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। এ সময় বই বিক্রিও বেশি হয়।’