শিশুকে বুদ্ধিমান করতে আমাদের করণীয়

8

 

প্রতিটি শিশু জন্মের সময় সমান মেধা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। শিশুর প্রথম পাঁচ বছর মেধা বিকাশের উত্তম সময়। পরিবেশ পরিস্থিতি ও পারির্পাশ্বিক কারণে প্রতিটি শিশুর মেধার তারতম্য ঘটে। আসুন আমরা শিশুর মেধা বিকাশে মনযোগী হই। কারণ আপনার শিশুই আগামী দিনে কর্ণধার। শিশুকে মেধাবী করে তুলতে আমাদের এ অভ্যাসগুলো তৈরি করতে হবে। ১. প্রতিদিন নতুন ছড়া কবিতা শিশুর সাথে পাঠ করা। ২.রঙিন ছবির বই ফুল ফল পাখি ইত্যাদি বিষয়ে ছবির মাধ্যমে শিশুর সামনে উপস্থাপন করা। ৩.আশে পাশের উপকরণ নিয়ে শিশুর সাথে খেলাধুলা করা। ৪.ভাষা শেখানোর সময় প্রমিত শুদ্ধ বাংলা বলার অভ্যাস করা। ৫.বাংলা বলার সাথে যতটুকু সম্ভব ইংরেজি শব্দের অর্থ বলার চেষ্টা করা। ৬.খেলনা হিসেবে শিশুর সামনে রঙিন কাগজ কলম আঁটা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে খেলতে দেওয়া। ৭.আপনার সন্তান যে কাজটা করতে পছন্দ করে সে কাজের প্রতি উৎসাহিত করা।
৮. সৃজনশীল বিষয়গুলো বিভিন্ন টেলিভিশন মোবাইলের মাধ্যমে শিশুর সামনে উপস্থাপন করা। ৯.সংগীত চর্চার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এতে শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে। ১০. বিভিন্ন গানের সাথে শিশুকে নাচতে বলুন এতে শিশু শারীরিক ও মানসিক ভাবে শক্তিশালী হবে। ১১. যেসব খাবারে শিশু বুদ্ধি দীপ্ত হয় সে সব খাবার শিশুর অপছন্দ হলে পছন্দের খাবারের সাথে মিশিয়ে দিন। ১২. প্রতিবেশী শিশুদের সাথে খেলতে দিন। ১৩. শিশুর বক্তব্য মনযোগ সহকারে শুনবেন। ১৪.শারীরিক শাস্তি না দিয়ে তাকে শাস্তি হিসেবে ছবি আঁকা গান ছড়া এগুলো করতে বলতে হবে।
১৫. মোবাইলে শিশুকে খেলাধুলা থেকে বিরত রেখে বিভিন্ন সৃজনশীল ভিডিওগুলো একসাথে উপভোগ করতে হবে। ১৬.বাড়ির বয়স্ক পিতা মাতার সাথে খেলতে দিতে হবে।এর ফলে আপনার শিশুকে বাড়ির বয়স্করা ভালো মন্দের তফাৎ বুঝিয়ে দিবে। ১৭. শিশুর প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিবেন এবং যথাযথ উওর দেওয়ার চেষ্টা করা । ১৮. শিশুর সামনে আগুন,পানি, ভূমিকম্প বিষয়ে ধারনা তৈরি করতে হবে।এতে বিপদের পূর্বাভাসে শিশু আপনা থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ১৯. বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মেইল এবং মোবাইল নম্বর নিজের আই ডি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা দিতে চেষ্টা করা। ২০.অবসরে শিশুকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে গল্পের মাধ্যমে জীবনের ভুলত্রুটি শিক্ষাগুলো তুলে ধরা। ২১. প্রথম পাঁচ বছরের শিশুকে দায়িত্ব, আত্মসম্মান, শৃঙ্খলা সামাজিকভাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করতে হবে। আসুন সবাই মিলে আমরা বুদ্ধিমান প্রজন্ম গড়ে তোলতে চেষ্টা করি। প্রতিটি শিশুকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রচেষ্টা অগ্রগণ্য।