শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ায় স্বস্তি

17

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে চলমান ‘কঠোরতম’ বিধি-নিষেধের মধ্যে আজ রবিবার থেকে চালু হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্প-কল কারখানা। তৈরি পোশাক শিল্পসহ উৎপাদনমুখী কারখানা শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে গতকাল শনিবার রাত থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও ফেরি চলাচলকে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখার মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এরপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনও পোশাক শ্রমিক কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না।
এর আগে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে পয়লা আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাকে চলমান কঠোরতম বিধি-নিষেধের আওতার বাইরে এনে চালুর অনুমতি দেয় সরকার। গত শুক্রবার এই খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হওয়ার পর জীবিকার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে ঢাকা-চট্টগ্রামের পথ ধরেন শ্রমিকরা। কিন্তু বিধি-নিষেধের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা ভ্যান-রিকশা ব্যবহার করে ও পায়ে হেঁটে রওয়ানা হয়। শনিবার দিনের বেলায় নগরীর প্রবেশমুখে বহু লোকজনকে পায়ে হেঁটে আসতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার রাত থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত সারাদেশ থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে আসার জন্য বাস ও ফেরি চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শ্রমিকদের আনার জন্য রবিবার পর্যন্ত বাস ও ফেরি চলাচলে বাধা না দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে লিখিত কোনও আদেশ দেয়া হবে না। মৌখিকভাবেই সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় জানান, এই মুহূর্ত থেকে রবিবার (আজ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেহেতু পয়লা আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা চালু হচ্ছে। তাই শ্রমিকদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিবহন মালিকরাও আজ পর্যন্ত বাস চলাচলের অনুমতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন জানিয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তাকে কল করে জানিয়েছেন, তার সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। কল-কারখানার শ্রমিকদের আনার জন্য বাস চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সড়কে শ্রমিকদের আনা-নেয়ার জন্য চলাচলকারী যানবাহনে কোনোরকম বাধা দেয়া হবে না।
এদিকে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আজ পর্যন্ত সব গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এরপরও বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতে অবস্থানরত কোনও পোশাকশ্রমিক-কর্মচারী কারখানায় কাজে যোগদান করতে না পারলে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এ সময়ে কারখানার আশপাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কারখানা-মালিকদের প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি এক বিবৃতিতে আহব্বান জানান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ আহব্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, রবিবার (আজ) থেকে কারখানা খুলে দেয়ার খবরে অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন। ফেরিতে এবং মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে শহরমুখী শ্রমিকেরা ভিড় করছেন। বিধি-নিষেধের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শহরে ফিরতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। বিবৃতিতে পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহব্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মুখসারির যোদ্ধা উল্লেখ করে তাদের প্রত্যেককে টিকার আওতায় আনার অনুরোধও করেছেন মালিকেরা। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় করোনার টিকার ব্যাপারে সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে তারা ইতিমধ্যে অনুরোধ করেছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পবিত্র ঈদুল আজহার পর গত ২৩ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারি করে সরকার। এ অবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সব রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা কঠোর বিধি-নিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখার জন্য সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আজ রবিবার থেকে সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা চালু হবে।