শিখন ঘাটতি পূরণে পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের সুপারিশ

5

 

করোনা মহামারির জেরে অষ্টম শ্রেণির অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে মধ্যম ও উচ্চমাত্রায় শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা পূরণে একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)।
গবেষণার তথ্য বলছে, বাংলায় ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যম মাত্রায় ও ২৪ শতাংশের উচ্চমাত্রায় শিখন ঘাটতি রয়েছে। বাংলায় স্বল্পমাত্রায় শিখন ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থী ২৫ শতাংশ। ইংরেজিতে মধ্যম মাত্রায় শিখন ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৮ শতাংশ, উচ্চমাত্রায় ১৮ শতাংশ এবং স্বল্পমাত্রায় শিখন ঘাটতি রয়েছে ২০ শতাংশ। গণিতে মধ্যম মাত্রায় শিখন ঘাটতি রয়েছে ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর, উচ্চমাত্রার ক্ষেত্রে তা ৩৯ শতাংশ এবং স্বল্পমাত্রার ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ। বেডু বলছে, মধ্যম ও উচ্চমাত্রার শিখন ঘাটতি পূরণ করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের মতামতের পাশাপাশি শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ ও মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ওই ঘাটতি পূরণে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন। এর অংশ হিসেবে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম, যেমন টেলিভিশনে ক্লাস স¤প্রচার, অনলাইন ক্লাস ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচির ভিত্তিতে টেলিভিশনে ক্লাস স¤প্রচারের পাশাপাশি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে ক্লাসগুলো আপলোড করার পরামর্শ দিয়েছে বেডু। এসব ক্লাস সাজানোর দায়িত্ব যৌথভাবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ও বেডুকে দেওয়া যেতে পারে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজ নিজ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদাভাবে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত ক্লাসে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বেডু বলছে, জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্লাসের ধরন নির্বাচনের (প্রত্যক্ষ বা অনলাইন ক্লাস) ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা দেওয়াই সমীচীন হবে। কারণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতায় ভিন্নতা আছে। জেলা পর্যায়ের অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রম জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তত্ত¡াবধানে সম্পন্ন করতে হবে। যেসব জেলায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ শিখন ঘাটতির কবলে পড়েছে, (যেমন: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা) সেখানে প্রত্যক্ষ শ্রেণি কার্যক্রমের চেয়ে অনলাইন ক্লাস বা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দিতে হবে। কারণ, এসব জেলায় অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য প্রচুর স্কুলঘণ্টা প্রয়োজন হবে, যা প্রত্যক্ষ শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ কার্যক্রমে সম্ভব হলে এসব জেলায় দ্রæত খÐকালীন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বলেছে বেডু। এসব জেলায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া স্বল্পমাত্রার শিখন ঘাটতি পূরণে নবম-দশম শ্রেণির ক্লাসের শুরুতেই অষ্টম শ্রেণিতে ছিল এমন প্রাসঙ্গিক ও সম্পর্কিত বিষয়বস্তুর ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্বালোচনা করার সুপারিশ করেছে বেডু।