শহীদের স্মৃতির ওপর হাসপাতাল নয়

12

‘সিআরবি ধ্বংস করে হাসপাতাল চাই না, প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসুন’ স্লোগান নিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে সিআরবিতে শহীদের স্মৃতির উপর হাসপাতাল করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা এ ঘোষণা দেন। সিআরবিতে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় শতবর্ষী রেইন ট্রিতে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব এর নাম ফলক স্থাপনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। এরপর আলোচনা এবং সবশেষ আরও নয়জন শহীদের নামে প্রকল্প এলাকার গাছগুলোতে নাম ফলক লাগানো হয়। কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, তারা বলছে গোয়ালপাড়ায় হাসপাতাল হচ্ছে। আসলে শহীদ আবদুর রব কলোনি ভেঙে হাসপাতাল হচ্ছে। অর্বাচীন আমলারা ভুল বুঝিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে চাচ্ছেন। এই শহীদ আবদুর রব কলোনিতে আরও শহীদদের কবরসহ নানা স্মৃতির উপর হাসপাতাল করতে দেয়া যাবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, শহীদের রক্তে রঞ্জিত মাটি নিয়ে যারা ব্যবসা করতে চান এটা বাংলাদেশের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী অদম্য নেত্রী। তিনি চট্টগ্রাম নিয়ে ভাবেন। নিশ্চয় উনার কাছে এতদিনে এ বার্তা পৌঁছে গেছে। আশাকরি তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত দিবেন। কবি সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল বলেন, রেলের জমি সংরক্ষণ করার কথা রেল কর্তৃপক্ষের। উল্টো তারাই সে জমি দিয়ে দিচ্ছে আর আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি এখানে কোনো হাসপাতাল হবে না। আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মনসুর বলেন, এখানে শহীদের কবর। পূর্বসূরীদের স্মৃতির জায়গা। একাত্তরের পরাজিত শক্তির মত কিছু উচ্চাভিলাসী আজ চক্রান্ত করছে। আয়োজক পিপল’স ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান বলেন, এই মাটি শহীদের স্মৃতিধন্য। এই সিআরবিতে অনেকে শহীদ হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। রেলের অনেক শ্রমিক কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। সেই স্মৃতি সংরক্ষণে রেল উদ্যোগ নেয়নি। অথচ শহীদের কবর, শহীদের নামে কলোনি, শহীদের নামে যে সড়ক সেই জমি তারা বেসরকারি হাসপাতালকে বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা বলতে চাই এই সিআরবিতে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা আমরা চাই না। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন দুলাল ও খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মোরশেদুল আলম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রূপক চৌধুরী, সাংবাদিক ও শিল্পী আলোকময় তলাপত্র, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ঋত্তিক নয়ন, কারিতাস এর শ্যামল মজুমদার, শিক্ষিকা মাগ্রেট মনিকা জিন্স, শিক্ষিকা শেখ বিবি কাউসার, সংগঠক বন বিহারী চক্রবর্তী, সাংবাদিক উজ্জ্বল ধর, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক, যুব সংগঠক রুবেল দাশ প্রিন্স, যুব মৈত্রীর খোকন মিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত নবী খোকা, প্রকৌশলী অমিত ধর, সাংবাদিক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস, সাংবাদিক আমিন মুন্না, তাপস দে ও নিউটন দাশ। প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন নারায়ন দাশ।