শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কঠোর ব্যবস্থা

16

নগরীর বেশ কিছু মার্কেট ও শপিংমল স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। তাই ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে দু’দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। প্রত্যেক মার্কেট ও শপিংমলে দু’দিনের মধ্যে চার-পাঁচ জনের মনিটরিং টিম করতে বলা হয়েছে। এ টিমকে সকল ক্রেতা ও বিক্রেতা মাস্ক পরছেন কিনা এবং মার্কেট ও শপিংমলের ভিতর ও বাইরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে কিনা, তা যাছাই করে দেখতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট মার্কেট ও শপিংমলের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। সরকারের মনিটরিং টিম লক্ষ্য করছে যে, বেশ কিছু মার্কেট ও শপিংমল স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে দু’দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক মার্কেট ও শপিংমলে দুই দিনের মধ্যে চার-পাঁচ জনের মনিটরিং টিম, সকল ক্রেতা ও বিক্রেতাকে মাস্ক পরা এবং মার্কেট ও শপিংমলের ভিতর-বাইরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। এদিকে সরকার ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে এবং রমজান মাস হওয়াতে লকডাউন শীতিল করে গত ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকল দোকানপাট মার্কেট ও শপিংমল কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। কিন্তু মার্কেট ও শপিংমলগুলো শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ঈদের দিন যতই কাছে আসছে, ততই মার্কেট ও শপিংমলে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এ অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হওয়ার পাশাপাশি মার্কেটগুলোতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। এছাড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, যেসব মার্কেটে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে না, প্রয়োজনে সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, করোনা ঝুঁকি থাকার পরও সরকার ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। এখন যদি ব্যবসায়ীরা শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে, তাহলে দেশ অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এতে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। তাই সকলের নিকট বিশেষ অনুরোধ কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করুন।
তিনি বলেন, নগরীর পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ লাখ দোকান রয়েছে। যেখানে মার্কেট ও শপিংমলও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। বেশ কিছু মার্কেট ও শপিংমল স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে দু’দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। দু’দিনের মধ্যে প্রত্যেক মার্কেট ও শপিংমলে চার-পাঁচ জনের মনিটরিং টিম করতে বলা হয়েছে। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
তামাকুমÐি লেইন বণিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবু তালেব বলেন, আমরা মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি। মার্কেটে ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানছে, তা তদারক করছি। এরপরও অনেকের মাঝে অসচেতনতার কারণে স্বাস্থ্যবিধি পালনে অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমিতির পক্ষ থেকে তাদেরকে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে মার্কেটে যেরকম ভিড় থাকে, এবার তেমন নেই। গণপরিবহন চালু না থাকার কারণে লোকজন মার্কেটে আসতে পারছে না। দোকানে তেমন কোন বেচাবিক্রি নেই। তাই ঈদ উপলক্ষে গণপরিবহন চালু কারার দাবি জানাচ্ছি।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণকে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রত্যকটা মার্কেটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী- মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে মার্কেটে মানুষের সমাগম বাড়তে পারে। তাই সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি।
এদিকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দোকান ও শপিংমল রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, করোনাকালে দোকানপাট ও শপিংমলে মূলত সন্ধ্যার পরে ভিড় হয়। এ ভিড় কমাতে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখা প্রয়োজন। এ দাবি জানিয়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর চিঠি দিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
চিঠিতে বলা হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এতে ক্রেতা সাধারণ বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফিরে ইফতার করেন। কারণ সব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যায় না বলে, বাইরে ইফতার করার কোন সুযোগ থাকে না।
অন্যদিকে বেসরকারি অফিসগুলোর বেশিরভাগই বিকেল ৪টায় ছুটি হয়। তারা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কেনাকাটা করে। ফলে এ সময় পর্যন্ত ক্রেতার চাপ অনেক হয় এবং প্রচন্ড ভিড় হয়। অন্যদিকে ইফতারের পর ঘণ্টাখানেকের জন্য মার্কেট খোলা থাকে। এ সময়ে মার্কেট প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মার্কেট যদি রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তাহলে বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যে ভিড় হয়, তা কমে যাবে এবং ক্রেতারা সময় নিয়ে কেনাকাটা করার সুযোগ পাবেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক মার্কেট কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ৯৫ ভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। এছাড়া ঈদের আর ১০ দিন বাকি, এ অবস্থায় ক্রেতা ও বিক্রেতার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার স্বার্থে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার আবেদন জানাচ্ছি।