লকডাউনে মানবিক রাজনীতি মানুষের জন্যই হওয়া চাই রাজনীতি

4

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ‘মানবতা’ একটি বহুল প্রচলিত শব্দ। যখন কেউ গলা ফাটিয়ে বলে এখানে কোন মানবতা নেই, ঠিক তখনই একজন সাধারণ মানুষের মনে মানবতা নিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্নের জন্ম হয়। আসলে মানবতা কি? মানবতা কি কোন বিশেষ গ্রুপের জন্য! যেমন ধরুন ধনী, জ্ঞানী, মুক্ত চিন্তার মানুষ না কি সবার? খুব সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মানবতা বলতে যা বুঝায় তা হল একজন মানুষের প্রতি আর একজন মানুষের দয়া বা মহানুভবতা। জাতিসংঘ থেকে ১৯৪৮ সালে যে মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করা হয় (Universal Declaration of Human Rights, 1948) তা অনুযায়ী আমরা সবাই মানুষ। সুতরাং সকলেরই এই মহানুভবতা পাওয়া উচিত যাকে আমরা মানবতা বলছি। বর্তমানে আমরা সাধারণ মানুষরা অনেক কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবন পার করছি। করোনা নামক মহামারি আমাদের জীবন চলার পথে নেতিবাচক ছন্দপতন ঘটেছে। লকডাউনের কবলে যখন দেশ, তখন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষগুলো অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। অসহায় হতদরিদ্র মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে জীবন সাধন করেন। এ অবস্থায় আমাদের রাজনীতি হওয়া চাই, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবায় মনোনিবেশ করা। অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার হাত সম্প্রসারণের ঐতিহ্য ও নজির থাকলেও সম্প্রতি আমরা এমন এক নেতিবাচক রাজনীতির সূচনা করছি যে, সরকার বা তার সমর্থিত দলকে সব করতে হবে, আর বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ শুধু সমালোচনাই করে যাব। এ ধরনের নেতিবাচক রাজনৈতিক বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আমাদের জীবন অনিশ্চিত প্রায়। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির যুগে, একটি দেশের জন্য মানবিক রাজনীতি অপরিহার্য, যেটা পূর্বেও ছিল। এরিস্টটল বলেছেন Man is by nature a political animal। এটুকু পরিষ্কার যে রাজনীতির মধ্যে আমাদের থাকতে হবে, ব্যবচ্ছেদ অসম্ভব। রাজনীতির মধ্যে থাকাটাই মানবিকতা। এ মানবিকতার প্রকাশ ঘটে সাধারণ মানুষের দুঃখ পরিস্থিতিতে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের মত মহামারিতে এ সুযোগটা রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের নেয়া চাই। গত শনিবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে এ দুঃসময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মানবিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়, এতে অনুপ্রাণিত হবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও। প্রতিবেদনে অবশ্যই সরকারি দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর তৎপরতায় অধিকতর উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বাড়ার পর থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সভা-সমাবেশ, মিছিলের চিরচেনা নগরী যেন খেই হারিয়েছে। কোথাও নেই মাইকের অনবরত আওয়াজ। গলা ফাটিয়ে কেউ উন্নয়নের কথাও বলছেন না। এ যেন অচেনা এক শহর। করোনায় বার আউলিয়ার শহর চট্টগ্রামে হঠাৎ নির্বাসনে গেছে রাজনীতি। সরকারের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে মাঠের রাজনীতি বন্ধ থাকায় মানবিক রাজনীতিতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা কেটে দিচ্ছে কৃষকের ধান। সন্ধ্যায় ইফতার বিতরণ ও মাঝরাতে সেহরি বিতরণেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঠের রাজনীতিকরা’। পাশাপাশি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ আরো বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ধর্মীয় রাজনেতিক দল এ ধরনের প্রশংসনীয় কর্মসূচি নিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংগঠনের করোনাকালীন মানবিক কার্যক্রম সর্বজনে প্রশংসিত হয়েছে। আমরা মনে করি, রাজনীতি হয় জনগণের জন্য। সুতরাং জনগণের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সময়মত কর্মসূচি ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে পারলে তাদের জনগণ পছন্দ করবে, জনগণের সমর্থনও তারা লাভ করবে। করোনাকালে কোন অপরাজনীতি নয় বরং মানবিক রাজনীতিই হোক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সাধনা-এমনটি কামনা আমাদের।