লকডাউনে ক্লান্তি কাটাতে নজর রাখুন আপনার খাদ্যতালিকায়

18

শুরু হয়ে গেছে লকডাউনের তৃতীয় পর্যায়। এর মধ্যে দু’ দফায় প্রায় চলি­শ দিন গৃহবন্দি দশা কাটিয়ে ফেলেছি আমরা। একদিকে সারাক্ষণ বাড়িতে একঘেয়ে জীবন কাটানো, আর তার সঙ্গে বাড়ির কাজ আর অফিসের কাজের সমান চাপ, সব মিলিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে এক গভীর ক্লান্তিবোধ। শুধু বিশ্রামে এই ক্লান্তি কাটার নয়, আপনার দরকার ভিতর থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠার এনার্জি যা আপনি পাবেন কেবল সঠিক খাওয়াদাওয়া আর সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা থেকে। কিছু টিপস দিলাম আমরা, এগুলো মেনে দেখুন, অবশ্যই সুফল পাবেন।
প্রোটিন খান: লকডাউনে বাড়িতে বন্দি আছেন বলে যা খুশি খেতে থাকবেন, এটা যেন না হয়। রোজকার ডায়েটে ভালো মানের প্রোটিন রাখুন। মাসল, ত্বক, শরীরের জয়েন্ট, মস্তিষ্ক, সবই ঠিকঠাক কাজ করবে প্রোটিন খেলে।
চিনি কম: বাড়িতে মাঝেমধ্যেই মিষ্টি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে? খুব বেশি মিষ্টি খাওয়ার অভ্যেস হয়ে গেলে কিন্তু বড়ো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে! অতিরিক্ত মিষ্টি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, মস্তিষ্কে একটি বিশেষ রাসায়নিক ক্ষরণে বাধা সৃষ্টি করে যা থেকে ক্লান্তিবোধ তৈরি হয়।
ডায়েটে রাখুন মিনারেলস: বিশেষ বিশেষ মিনারেলসের অভাবে অনেক সময়ই গভীর ক্লান্তিবোধ তৈরি হয়। দৈনন্দিন খাবারে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলে এনার্জির অভাবে ভুগতে পারেন আপনি। সবুজ শাকসবজি, কলা, বাদাম, ছোলার মতো খাবার প্রতিদিন ঘুরিয়েফিরিয়ে খান। তাতে অনেকটা এনার্জি ফিরে পাবেন। একইভাবে খাবারে আয়রন থাকাও খুব দরকার। তাতে অ্যানিমিয়াজনিত ক্লান্তি কাটবে।
চা কফি বেশি নয়: ক্লান্তি কাটাতে বেশি বেশি করে চা-কফি খাওয়া ধরবেন না। ক্যাফিন যেমন শরীরে চটজলদি এনার্জির জোগান দেয়, তেমনি তা থেকে শরীরে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়, যার ফলে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়। তাই সকাল-বিকেল এক কাপ চা বা কফি চলতে পারে, কিন্তু তার বেশি না খাওয়াই ভালো!
ভিটামিন সি খাওয়া বাড়ান: আমাদের নিমেষে চনমনে করে তুলতে পারে ভিটামিন সি। লেবু, আমলকি, মুসুম্বি বেশি করে খান। পেয়ারাতেও প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। প্রতিদিন ভিটামিন সি খেলে অনেকটাই উদ্দীপ্ত থাকতে পারবেন। সূত্র: ইন্টারনেট
ঘরের কাজেই ব্যায়ামের সুফল

জিম বন্ধ গত দু’মাস, বন্ধ পার্কে গিয়ে জগিং বা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামও। কাজেই ঘরে বসেই শরীরচর্চা করছেন অনেকে। কিন্ত শরীরচর্চার জন্য আলাদা করে সময় যাঁদের কাছে নেই, তাঁরা কী করবেন? তাঁদের জানানো যাক, নৈমিত্তিক ঘরের কাজের মাধ্যমেও শরীরচর্চা করা যায় এবং ব্যায়ামের মতোই উপকারও পাওয়া যায়! দেখে নিন কী ধরনের ঘরের কাজ করলে ফিট থাকবে শরীর।
ঘর মোছা: ঘরের যে সব কাজে সবচেয়ে বেশি শারীরিক কসরত করতে হয়, তার একদম উপরের দিকেই রয়েছে ঘর মোছা। তবে আধুনিক মপার দিয়ে মুছলে হবে না, আগেকার দিনের মতো মেঝেতে থেবড়ে বসে মুছতে হবে। প্রথম প্রথম কষ্ট হলেও চালিয়ে যান। হাঁটু গেড়ে ঘর মোছার সময় পেট আর কোমরে চাপ পড়ে, পায়ের মাসলেরও ওয়ার্ক আউট হয়। বেশ কিছুদিন করে দেখুন, কোমর আর পেট কেমন ছিপছিপে হয়ে যায়!
ঝুল ঝাড়া: ঘর মোছার চেয়ে এ কাজটা অপেক্ষাকৃত সহজ, কিন্তু এতেও ক্যালরি পোড়ে বিস্তর! যাঁদের পিঠ আর ঘাড়ের দিকটা ভারী, তাঁরা ঝুল ঝাড়লে দ্রæত পিঠের মেদ কমাতে পারবেন।
আলমারি গোছানো: হাত উঁচু করে আলমারির উপরের তাক গোছালে বা দেওয়ালের উপরে লাগানো বইয়ের তাক পরিষ্কার করলেও পিঠের মেদ কমবে। একইভাবে নিচু হয়ে আলমারির নিচের তাক গোছালেও কোমর আর পায়ের ব্যায়াম করার মতোই ফল পাবেন।
বাসন মাজা: হাত আর বাহুর জন্য এর চেয়ে ভালো ব্যায়াম নেই। ঘষে ঘষে বাসন মেজে পরিষ্কার করলে হাতের পেশি সক্রিয় থাকে, ক্যালরিও পোড়ে অনেকটাই।
রান্না করা: এই কাজটা শুনতে অপেক্ষাকৃত কম পরিশ্রমের মনে হলেও আগুনের আঁচে রান্না করতে গিয়ে যথেষ্টই ক্যালরি পোড়ে।
কাপড় কাচা: অনেকেই ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে ঝটপট জামাকাপড় ধুয়ে নেন। কিন্তু হাতে কাপড় কাচার কাজটা যেমন পরিশ্রমসাধ্য, তেমনি শরীর ছিপছিপে রাখতেও সাহায্য করে। পুরো হাতের ব্যায়াম হয় কাপড় কাচলে। তেমনি বিছানার চাদরের মতো ভারী জিনিস অনেকেই পা দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করেন, ফলে পায়ের পেশিগুলো অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।
মনে রাখুন: জিমে গিয়ে ব্যায়াম বা ফ্রি হ্যান্ডের সময় যে সব সতর্কতা মেনে চলেন, ঘরের কাজ করার সময়ও সে সব মেনে চলতে হবে। যদি কোনও কাজ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক হাঁপিয়ে যান বা অতিরিক্ত শরীর খারাপ লাগতে থাকে, তবে সে কাজ করবেন না। ঘরের কাজ করার অভ্যেস একেবারেই না থাকলে একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ নিয়ে ফেলবেন না। অল্প অল্প করে শরীরকে সইয়ে সইয়ে কাজ করুন। সূত্র: ইন্টারনেট