লকডাউনের অজুহাতে খুচরা বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি বাজার মনিটরিং-এ কঠোর হতে হবে

1

‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী’- বাংলাদেশের নিত্য খাদ্যপণ্য বাজারে বিশেষ করে এ বচনের সত্যতা মিলে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীদের কাজ হচ্ছে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বাজার দরে আগুন তোলা। আর ইস্যু যখন ঘরে আসে তখন অজুহাতের কল্পকাহিনী উপস্থাপিত হয়। এবারও ব্যত্যয় ঘটছেনা। ‘লকডাউনে’র প্রথম দিনে পণ্য সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চট্টগ্রামসহ দেশের নগর বাজারগুলোতে সব ধরনের নিত্যপণ্যেও খুচরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ করা যাচ্ছে, রমজান শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এবারও বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। অসাধু সিন্ডিকেট গত প্রায় দুমাসে ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। অথচ পাইকারি ও খুচরা বাজারে খাদ্যপণ্যের কোনো ধরনের সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় সব ধরনের পণ্যের বেশি মজুত দেখা গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনে বরং চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কমেছে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে। দুর্ভাগ্য খুচরা বাজারে এর কোন প্রভাব তো পড়েইনি, উল্টো দাম বেড়েছে।
এখন বৈশ্বিক করোনা মহামারি আবারও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে। এরফলে সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আবারও ছন্দ পতন ঘটবে। দিন মজুর খেটে খাওয়ার নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর আয়ের পথ সংকোচিত হয়ে যাবে-এটিই স্বাভাবিক। এসব বিষয় বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের উচিৎ তাদের নীতির পরিবর্তন করা। মানবিক ব্যবসায়ী হওয়ার চিন্তা করা। একইসাথে সরকারের উচিৎ হবে সামনে রমজান মাস, তাই এখনই দ্রæত পদক্ষেপ না নিলে ব্যবসায়ীরা লকডাউনের অজুহাতে পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। লক্ষ করা যায়, রমজানের প্রাক্কালে পণ্যের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো হয়, পরে তা আর কমানো হয় না। কাজেই বাজারের নিয়ন্ত্রণ যাতে দুষ্টচক্রের হাতে চলে না যায়, সেজন্য কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।
কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রতি বছর রমজানের আগে নানা রকম স্বস্তিদায়ক আশ্বাস শুনতে পাই। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে চায় দুষ্টচক্রের কব্জায়। অবশ্য এক্ষেত্রে ভোক্তারাও দায়মুক্ত নন। রোজা শুরুর আগে অনেকেই বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় বিক্রেতারা এর সুযোগ নেয়।
করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালীন নিত্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের জোর তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বিআরটিসির যেসব ট্রাক রয়েছে সেগুলোতেও অর্ধেক ভাড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায় অসাধু সিন্ডিকেট চক্র কতটা শক্তিশালী। এ অবস্থায় বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলবে। আশা করি, সরকারের নির্দেশনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের জোর তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।