লংগদুতে প্রভাব খাটিয়ে ইউপি কার্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রি!

10

রাঙামাটি প্রতিনিধি

জেলার দুর্গম লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের কয়েক দশক আগের ১০-১১টি তুলাগাছ কেটে ফেলেছেন স্বয়ং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যার। সম্প্রতি ৪নং বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বশর নিজের ক্ষমতার জোরে ৩০-৩৫ বছর আগের পুরাতন তুলাগাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১ নভেম্বর এসব গাছ কাটা হলেও কেউ কথা বলতে চাননি এই বিষয়ে। তবে প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। চেয়ারম্যানের অন্যায়-অত্যাচারে অনেকে প্রতিবাদ করারও সাহস করেন না এখন। স্থানীয় লোকজন জানান, চেয়ারম্যান ক্ষমতার জোরে ৩০-৩৫ বছরের পুরাতন বিশালাকার তুলা গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেন। সরকারি গাছ তিনি এভাবে কেটে বিক্রি করে দিতে পারেন কিনা সে বিষয়ে সদুত্তর মিলছে না। আইনে বলা আছে- উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় রেজুলেশন করে সেখানে পরিষদের অনুমতি পেলে ওই গাছ বিক্রি করা যাবে। তবে, এই ক্ষেত্রে গাছ কাটার যুক্তিসংগত কারণও থাকতে হবে। গাছ বিক্রির টাকা পরিষদের তহবিলে জমা করতে হবে। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই একক সিদ্ধান্তে পরিবেশ ধ্বংস করে বহুদিনের পুরাতন বড় বড় তুলা গাছগুলো তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন।
এব্যাপারে মুঠোফোনে মো. আব্দুল বশর চেয়ারম্যান জানান, পরিষদের তুলা গাছগুলো ভেঙ্গে টিনের চালের উপর পড়ে। তাই পরিষদে একটি রেজুলেশন করে তা ১০-১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। তবে উপজেলা পরিষদের অনুমতি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশনের কপিও তিনি দেখাতে পারেননি। গাছকাটার বিষয়টি ব্যাপক আকারে জানাজানি হলে সুকৌশলে নিজের অপকর্ম থেকে রেহাই পেতে তড়িঘরি করে ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে একটি রেজুলেশন তৈরি করে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এব্যাপারে ইউএনও’র সিএ মো. ইয়াছিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বগাচতর ইউনিয়নের গাছকাটার ঘটনা আমাদের জানা নেই।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলামকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংস করে গাছ বিক্রি করে দেয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. কবির হোসেন। কবির হোসেন বলেন, বগাচতর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বশর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পরিষদের তুলা ও জামগাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে আমার দাবি- এটার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।