রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি গ্রেপ্তার সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে আরো কঠোর হতে হবে

6

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কক্সবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে ‘জমাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল টেকনাফে পালিয়ে আসে। মানবিক কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, দেশি-বিদেশি এনজিও এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতোপূর্বে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা প্রত্যাবসানের বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত প্রায় রাষ্ট্র এতে তাদেও সন্মতি জানিয়েছেন। এমনকি মিয়নমারের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে পরিচিত চীনও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এ ক্ষেত্রে একধরণের নির্লিপ্ততা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাদের পক্ষ থেকে এখনো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয় নি।
রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে সরকারের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। তাদের কারণে দেশের দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলে নানাপ্রকার নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। একদিকে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প হতে দেশের বিভিন্নস্থানে পালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। সরকার রোহিঙ্গাদের আবাসন সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষে তাদের জন্য ভাসানচরে পুনর্বাসন কর্মসূচিও গ্রহণ করেছেন। কিন্তু রোহিঙ্গারা সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যাচ্ছেনা। আবার অনেকে গিয়েও পালিয়ে যাচ্ছে অন্য স্থানে।
এদিকে দেশ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ সম্প্রতি আরাকানের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে সন্ত্রাসী কর্মকাÐসহ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ক্যাম্পে জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অবস্থান দেশের সরকার ও সচেতন মহলকে নতুনভাবে দুঃচিন্তায় ফেলেছে। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বান্দরবানের গভীর অরণ্যে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের খবরের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের তৎপরতা দেশের জন্য মোটেই সুখকর নয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকা আরো জোরদার করতে হবে। সরকারকে আরো কঠোরভাবে জঙ্গি দমনে তৎপর হতে হবে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, রোহিঙ্গারা শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণে ভালোমন্দ বাছবিচারের খুব একটা সচেতন নয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় সেবা ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নিতে পারে।
খবরে প্রকাশ, এদেশের বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা শরণার্থী যুবকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহার করছে। যে কারণে রোহিঙ্গারা বর্তমানে দেশের বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। একদিকে দেশের অর্থনীতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে তারা ব্যবহৃত হচ্ছে অপরাধী গোষ্ঠীর হাতের ক্রিড়নক হিসেবে।
র‌্যাব-২, র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে গোপন সূত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গাক্যাম্প থেকে জঙ্গি নেতা গ্রেপ্তার তারই সাক্ষ্য বহন করে। র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন হতে জানা যায় জঙ্গিরা র‌্যাবের সাথে তুমুল গোলাগুলির পরিবেশ সৃষ্টির সাহস দেখিয়েছে। এ ঘটনায় সারা দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। জঙ্গিদের যদি দ্রæত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সে সকল অপরাধ প্রবণ ও জঙ্গি সংগঠন ব্যভহার করছে তাদের তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ র‌্যাবকে দক্ষতার সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ ও জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নয় তো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে গিয়ে দেশে প্রশাসন বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যারা খারাপ কাজে ব্যবহার করছে তাদের গডফাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর হাতে দমন করার কার্যকর উদ্যোগ নেবে -এমন প্রত্যাশা সমগ্র দেশবাসীর।