রোহিঙ্গা অনেকের মৃত্যুর শঙ্কা

27

 

ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের উপক‚লে ভাসমান একটি নৌকায় অন্তত ১০০ রোহিঙ্গা আটকা পড়েছে এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও পানিতে ডুবে ১৬ থেকে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা দুটি গোষ্ঠী।
গত মঙ্গলবার রাতে ৫টি ভারতীয় জাহাজ আন্দামান সাগরে ভাসমান ওই রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকার কাছে পৌঁছায় বলে এ বিষয়ে অবগত এক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজের
ভারতীয় নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র পরে জানান, “এ বিষয়ে জানানোর মতো কিছু তার কাছে নেই। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছ থেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি। আমাদের অনুমান হচ্ছে ২০ জনের মতো মারা গেছে, কেউ মারা গেছে ক্ষুধা, তৃষ্ণায়, মরিয়া হয়ে নৌকা থেকে লাফিয়ে পড়ার পর অন্যদের মৃত্যু হয়েছে।”
“এটা সত্যিই ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক,” বলেছেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ করা আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেয়া।
এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি নেটওয়ার্কের রোহিঙ্গা ওয়ার্কিং গ্রুপ বলছে, নৌকায় থাকা রোহিঙ্গাদের ওই দলটি দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে ভাসছে। “আমরা গত রাতে শুনেছি, বেশ কয়েকটি ভারতীয় নৌযান ওই নৌকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, আমরা পরবর্তী খবর শোনার অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, ভারতীয় নৌবাহিনী বা কোস্টগার্ড তাদেরকে দ্রুত ওই নৌকা থেকে উদ্ধার করতে পারবে। তারা খাবার ও পানি ছাড়া দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে একটি নষ্ট নৌকায় ভাসছে। আমরা শুনেছি, ১৬ জন নাকি এর মধ্যে মারাই গেছে,” বলেছেন এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি নেটওয়ার্কের রোহিঙ্গা ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ার লিলিয়ান ফ্যান।
কয়েকদিন আগে শ্রী লঙ্কার নৌবাহিনী অন্য আরেকটি নৌকা থেকে শতাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছিল।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নের মুখে ২০১৭ সালে ৭ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিল; সেবার মিয়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইনে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ চালিয়েছিল বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যম রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর বেসামরিক হত্যা এবং একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার তথ্য-উপাত্তও হাজির করেছে।