রোহিঙ্গাদের এনআইডি দেয়া ইসি কর্মীর ৭৬ লক্ষ টাকার অবৈধ সম্পদ

29

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের ভোটার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়া ইসি কর্মচারী জয়নাল আবেদীন ও তার স্ত্রী আনিছুন নাহারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে ৭৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) তৎসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় জয়নাল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হলেও গত ১২ সেপ্টেম্বর আদালত সেটি গ্রহণ করেছে। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর আগে গত ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সাবেক উপ সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে জয়নাল জামিনে থাকলেও তার স্ত্রী আনিছুন নাহার পলাতক আছেন। ২০০৪ সালে এমএলএসএস পদে ৫৯৬০ টাকা বেতন স্কেলে জয়নাল সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদান করেন। বর্তমানে তার বেতন স্কেল ১৩ হাজার ৯০০ টাকা। চাকরিকালীন সময়ে জয়নাল ২২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা আয় করেন। তার অন্য আয়ের কোনও উৎস নেই।
আসামি জয়নাল আবেদীন অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে সাত শতাংশ জমির উপর পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে চারতলা বাড়ি (নির্মাণাধীন) করছেন। এর চারপাশেই সীমানাপ্রাচীর দেয়া। অথচ তার পিতা ছিলেন মাছধরার ট্রলারের শ্রমিক। পিতার নামে তিন গন্ডা জমি ছাড়া আর কোনও জায়গাজমি নাই। যে কারণে তার পিতার কাছ থেকে কোনও জমি-অর্থ পাননি জয়নাল। বাঁশখালী উপজেলার জলদীর একটি মাদ্রাসায় নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর আর পড়াশোনা করেননি। কিছুদিন একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করলেও পরে নির্বাচন কমিশনে এমএলএসএস হিসেবে যোগদান করেন।
কোনও ধরনের ঋণ না নেয়ায় ভবন নির্মাণে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। সেসময় জয়নাল জানিয়েছিলেন তার দুই ভায়রা, বোন জামাই, শ্যালিকা ও পিতা-মাতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ভবন করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার বোন জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকা ধার দেননি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তাকে। এসব টাকা কোনও ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন হয়নি। সবকিছু বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়নাল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৬৩ টাকা ভোগ দখলে রাখার প্রমাণ পান।