রোজা সকল পাপ থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

21

লায়ন এইচ এম ওসমান সরওয়ার

রোজা ফারসি শব্দ। আরবিতে বলা হয় সাওম। এর অর্থ বিরত থাকা। তোমাদের উপর সাওম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে। যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩) সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে রোজা বা সাওম। একজন রোজাদার চেষ্টা করে সকল পাপ থেকে বেঁচে থাকতে। তাকওয়া অর্জনের জন্য মানুষ সিয়াম সাধনা করেন। রোজা থাকা অবস্থায় মানুষ যেকোনো মন্দ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। রোজা পালনের মাধ্যমে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক পবিত্রতা ও প্রশান্তি অর্জিত হয়। সারাদিন অনাহারে থাকাসহ সংযমী জীবন-যাপনের মাধ্যমে তার মাঝে খারাপ দোষগুলো নিস্তেজ হয়ে ফেরেশতা সুলভ উত্তম গুনাবলী বিকশিত হয়। তাই রমজানের রোজাকে বলা হয়েছে ঢাল স্বরূপ। একটি পাত্রে যেমন ঢাকনা থাকলে সেখানে কিছু পরতে পারেনা তদ্রæপ রোজা থাকা অবস্থায় মানুষ সকল পাপ থেকে নিজেকে বিরত থাকে। এবং হাতে একটা ঢাল থাকলে যেমন যেকোনো আক্রমণ থেকে বাঁচা যায় তেমনি রোজা ঢাল হিসেবে যেকোনো মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
সচরাচর সমাজেও দেখা যায়, রোজা থাকলে যেকোনো মন্দ বা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। এককথায় বলা চলে রোজা মানুষকে সকল প্রকার পাপ বা মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। রোজা রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া অর্থ হচ্ছে আল্লাহ ভীতি। সুতরাং তাকওয়াবান ব্যক্তি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে এবং পাপাচার থেকে বিরত থাকে। জাহান্নামের প্রজ্বলিত অগ্নি থেকে মুক্তিলাভের ঢাল হচ্ছে রোজা। হয়রত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন, রোজা হলো ঢাল স্বরূপ। বান্দা এর (রোজার) দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রোজা আমার জন্য আর আমিই এর পুরস্কার দেবো’ (মুসনাদে আহমাদ: ১৪৬৬৯)।
আরেকটি হাদিসেও এ সংক্রান্ত কথা বলা হয়েছে। হযরত উসমান ইবনে আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিÑ ‘রোজা হলো জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল। যুদ্ধক্ষেত্রে তোমাদের (শত্রুর আঘাত হতে রক্ষাকারী) ঢালের মতো’ (মুসনাদে আহমাদ: ১৬২৭৮)।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে আরো বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যান’ (বোখারি শরিফ: ১৬৮৫)।
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বণিত হয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘রোজা হলো ঢাল এবং সুরক্ষিত দূর্গ।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৯২২৫)
মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে কুদসি-এর মাধ্যমে রোজা সম্পর্কে বলেছেন, যা বোখারি শরিফে (১৮৯৪ এবং ১৯০৪) এবং মুসলিম শরিফে (১৬৩ এবং ১৬৪) সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে- ‘আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই। কিন্তু রোজা স্বতন্ত্র, তা আমার জন্য। আর আমি তার প্রতিদান দেবো। সে পানাহার এবং যৌনাচার ছেড়ে দেয় একমাত্র আমারই জন্য। রোজা ঢাল স্বরূপ। কাজেই তোমাদের কেউ যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং হৈ হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ তাকে গালিগালাজ করে অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, নিঃসন্দেহে রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকটে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে তখন সে আনন্দিত হয়। যখন সে ইফতার করে তখন সে আনন্দিত হয়। যখন আপন পালনকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে স্বীয় রোজার জন্য আনন্দিত হবে।’
অতএব রোজা মুসলমানের জন্য নিরাপত্তা বিধান করে, জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করে। মুসলমানের আত্মীক ও শারীরিক উপকারের পাশাপাশি রোজা ঢাল ও দূর্গের মতো জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুন থেকে বাঁচায়।

লেখক : প্রাবন্ধিক